নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বৃহস্পতিবার সকালে বোমা বিস্ফোরণে ডান হাত উড়ে গেল এক বৃদ্ধার। ঘটনাটি নন্দীগ্রাম থানার কালীচরণপুর পঞ্চায়েতের সপ্তমখণ্ড জালপাই গ্রামের। নিহারী দাসঅধিকারী নামে ছেষট্টি বছরের ওই বৃদ্ধাকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তাঁর ডান হাতটি কনুই থেকে উড়ে গিয়েছে। ওই ঘটনায় নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। গত ১৫ জুন রবিবার কালীচরণপুর সমবায় সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, পুলিস পর্যাপ্ত বাহিনী দিতে পারবে না বলে জানানোর পর আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সেই ভোট পিছিয়ে গিয়েছে। ভোটে গণ্ডগোল পাকানোর জন্য বোমা মজুত রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ নিহারী দাসঅধিকারী বাড়ির লাগোয়া ইটের স্তূপ সরাচ্ছিলেন। সেইসময় সেখানে সুতলি দড়ি জড়ানো ওই বোমাটি পড়েছিল। সেটি বোমা বলে বুঝতেই পারেননি ওই বৃদ্ধা। তিনি হাতে তুলে নাড়াচাড়া করতেই ফেটে যায়। জখম অবস্থায় তাঁকে নন্দীগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নন্দীগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শঙ্কু নায়েক ও অন্যান্যরা আহত বৃদ্ধাকে তমলুক হাসপাতালে আনেন।
গত কয়েকদিন ধরে কালীচরণপুর সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির দ্বৈরথে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। বিজেপির হুমকিতে তৃণমূলের এক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর সেই সংঘাত আরও বাড়ে। ২০২৪ সালে নভেম্বর মাসে তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের ভোট ঘিরে নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন বিদ্যাভবনে বোমা পড়ে। অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। ওই রাতে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন কালীচরণপুর পঞ্চায়েতের সপ্তমখণ্ড জালপাই গ্রামের তৃণমূল কর্মী বিষ্ণুপদ মণ্ডল। এবার কালীচরণপুর সমবায় ভোট ঘিরে ওই এলাকা ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরই এলাকা সন্ত্রস্ত হয় বলে অভিযোগ।
তৃণমূল কংগ্রেসের নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, আমাদের কর্মী বিষ্ণুপদ মণ্ডল খুনে ধৃতরা জামিন পেয়ে বাড়িতে এসেছে। কালীচরণপুর সমবায় ভোটে তারা গণ্ডগোল পাকাতে বোমা মজুত করেছিল। সেই বোমা ফেটে নিরীহ নিহারীদেবী গুরুতর জখম হয়েছেন। আমরা এই ঘটনায় নিরপেক্ষ পুলিসি তদন্ত দাবি করছি। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, জখম বৃদ্ধা তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক। তাঁর বাড়ির পিছনে একটি পরিত্যক্ত এলাকার মধ্যে বোমা মজুত করেছিল শাসক দলের লোকজনই। ১৫ জুন সমবায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। সেই ভোটে শাসক দলের হার নিশ্চিত বুঝে ভোট স্থগিত করা হয়। বোমা মজুতের পিছনে শাসক দলের হাত ছিল।-নিজস্ব চিত্র