মুতাহার কামাল, চোপড়া: বিজেপিকে ভোট দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধেই। প্রতিবাদ করায় ৬৮ বছর বয়সি বৃদ্ধা ও তাঁর ভাইপোকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
মুতাহার কামাল, চোপড়া: বিজেপিকে ভোট দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধেই। প্রতিবাদ করায় ৬৮ বছর বয়সি বৃদ্ধা ও তাঁর ভাইপোকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চোপড়ার লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের মোহনগছ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬২ নম্বর বুথে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ,এদিন ওই বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন বৃদ্ধা ঝরিমন নেসা। সঙ্গে ছিলেন ভাইপো সোহেল আক্তার। বুথের প্রবেশপথে কর্তব্যরত জওয়ানরা তাঁদের আটকান এবং বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। অসহায় বৃদ্ধা দমে না গিয়ে জওয়ানদের সাফ জানান, ভোট দেওয়া তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃদ্ধার এই অনমনীয় মনোভাব দেখে মেজাজ হারান জওয়ানরা। তখনই তাঁরা লাঠি উঁচিয়ে ওই বৃদ্ধা ও তাঁর ভাইপোর উপর চড়াও হন। লাঠির আঘাতে বৃদ্ধার কপাল ফুলে যায় এবং তাঁর ভাইপো হাতে চোট পান। ঘটনা জানাজানি হতেই বুথ চত্বরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মইনুদ্দিন ইসলাম বাধা দিতে গেলে তাঁকেও ধাক্কা মারা হয় বলে অভিযোগ। বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এখানে নিরপেক্ষভাবে কাজ করেনি। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ভয় দেখিয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে আসা মানুষের উপর এই আক্রমণ নজিরবিহীন। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাব।
আক্রান্ত সোহেলের দাবি, শুধু পিসিই নন, লাইনে থাকা অন্য ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছিল বাহিনীর একাংশ। প্রতিবাদ করায় তিনজনকে লাঠিপেটা করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বাহিনীর অতি সক্রিয়তা এবং পক্ষপাতিত্বের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে বিজেপি। তৃণমূল ব্লক সহ সভাপতি ফজলুল হক বলেন, কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে বিজেপিকে জেতানোর চেষ্টা করছে। ভোটাররা প্রতিবাদ করে আক্রান্ত হয়েছেন। ইভিএমেই এর জবাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি অসীম বর্মন বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী কাউকে প্রভাবিত করেনি। শাসকদল নিশ্চিত হার বুঝতে পেরে এখন বাহিনীকে দোষারোপ করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।