নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। ডাক পেয়েছিলেন এসআইআরের শুনানিতে। সেই মতো হাজিরও হন শুনানিতে। বিডিও অফিস থেকে হিয়ারিং সেরে বাড়ি ফেরার তিনদিন পর মৃত্যু হল বৃদ্ধের। মৃতের নাম সুলতান সর্দার (৬০)। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশ সীমান্তের স্বরূপনগর ব্লকে। ইংরেজি নতুন বছরের প্রথমদিনে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, সুলতান সর্দারের বাড়ি স্বরূপনগরের স্বরূপদা গ্রামে। তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও ছেলে ও পুত্রবধূ রয়েছে। কাজের সূত্রে বছরের বেশিরভাগ সময় তাঁকে ভিন রাজ্যে থাকতে হয়। তিনি জানতে পারেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় শুনানির নোটিস এসেছে বাড়িতে। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। গত ২৭ ডিসেম্বর তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয় স্বরূপনগরের এফপি স্কুলে। কমিশনের নির্দেশমতো শুনানিতে হাজিরও হন তিনি। অভিযোগ, সেখানে পর্যাপ্ত নথি দেখাতে পারেননি তিনি। এরপর বাড়ি ফিরে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। চিকিৎসা চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সুলতান। মৃত্যুর কথা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায় গ্রামে। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ভোট দিয়ে আসছেন স্বরূপদা গ্রামের ৯৮ নম্বর বুথে। ৫০ বছর ধরে তাঁর পূর্বপুরুষরা বসবাস করছেন এখানে। সুলতান সর্দারও এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। এসআইআরের নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই তিনি আতঙ্কে ভুগছিলেন। মৃতের স্ত্রী দিলুয়ারা বিবি বলেন, ‘এসআইআরের নোটিস পাওয়ার পর থেকেই স্বামী চিন্তায় পড়েন। বলতেন, এবার বোধহয় দেশ থেকে বিতাড়িত হতে হবে। আমি সাহস জোগাতাম। শুনানির পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসআইআরের জন্যই আমার স্বামীর মৃত্যু হল। এর জাস্টিস চাইছি।’



