Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর আতঙ্কে এবার রামনগরে মৃত্যু হল প্রবীণের

পানিহাটির প্রদীপ করে পর এবার তমলুকের রামনগর। রাজ্যে ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। রামনগর-১ ব্লকের কাঁটাবনী গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

এসআইআর আতঙ্কে এবার রামনগরে মৃত্যু হল প্রবীণের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও চুঁচুড়া: পানিহাটির প্রদীপ করে পর এবার তমলুকের রামনগর। রাজ্যে ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। রামনগর-১ ব্লকের কাঁটাবনী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। মৃতের নাম শেখ সিরাজউদ্দিন (৭১)। রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃদ্ধের ছেলে শেখ শামিমউদ্দিনের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই প্রাণ হারিয়েছেন বাবা। রাজ্যের অন্য প্রান্তেও এক রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হুগলির ডানকুনিতে এসআইআর নিয়ে পাড়ায় সচেতনতা বার্তার পরই অসুস্থ হন এক বৃদ্ধা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতার নাম হাসিনা বেওয়া। এই ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। তাহলে কী এসআইআর আতঙ্কেই এই মৃত্যু? শাসকদল তাই দাবি করছে। যদিও তা উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।

Advertisement

রামনগরের মৃত্যু সম্পর্কে জানা গিয়েছে, শেখ সিরাজউদ্দিন ও তাঁর বাবা শেখ আব্দুল নেসার কর্মসূত্রে জাপানে থাকতেন। ১৫ বছর আগে তাঁরা ওই দেশ থেকে ফিরে আসেন। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় বাব-ছেলে কারও নাম ছিল না। তারপর শেখ সিরাজউদ্দিনের নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে। ভোটার তালিকা এবং পাসপোর্টে সিরাজউদ্দিনের বাবার নাম দু’রকম রয়েছে। তাই এসআইআরের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই সিরাজউদ্দিন ভয় ও আতঙ্কে ভুগছিলেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে এদেশের সরকার তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে বাড়িতে চলছিল।  পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন সিরাজউদ্দিন। সোমবার ভোরে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই সার বলেন, এসআইআর নিয়ে যেভাবে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, তাতে অনেকের মধ্যে ভিটেমাটি ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় ধরাতে এমনটা করছে।
অন্যদিকে, পাড়ায় এসআইআর বৈঠকের পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ডানকুনির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসিনা বেওয়া। বছর ষাটের ওই বৃদ্ধা মথুরডিঙি নজরুল পল্লিতে ভাড়া থাকতেন। তাঁর নিজের বলতে তিনজন নাবালক নাতি-নাতনি আছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। যদিও আধার থেকে ভোটার এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের ই-শ্রম কার্ডও আছে তাঁর নামে। রবিবার রাতে স্থানীয় একটি ক্লাবের সামনে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। স্থানীয়রাই তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার জেরে রাতেই এসআ‌ইআর আতঙ্ক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সোমবার ডানকুনি পুরসভার চেয়ারম্যান হাসিনা শবনম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। দলের নির্দেশে দিল্লি থেকে এলাকায় ফিরে আসেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও রাতে গিয়েছিলেন। ডানকুনি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা প্রকাশ রাহা বলেন, বিজেপির মানুষ মারা পরিকল্পনাতেই মৃত্যু হয়েছে হাসিনা বেওয়ার। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য নেতা স্বপন পাল বলেন, রাজনৈতিক হাতিয়ার নেই। মৃতদেহ খুঁজছে তৃণমূল কংগ্রেস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ