Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুঞ্চায় দলছুট হাতির হানায় বৃদ্ধের মৃত্যু, আতঙ্ক

রবিবার সকালে পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক অফিস সংলগ্ন এলাকায় দলছুট হাতির আক্রমণে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পুলিস ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বাহাদুর মাহাত (৭২)

পুঞ্চায় দলছুট হাতির হানায় বৃদ্ধের মৃত্যু, আতঙ্ক
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: রবিবার সকালে পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক অফিস সংলগ্ন এলাকায় দলছুট হাতির আক্রমণে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পুলিস ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বাহাদুর মাহাত (৭২)। রবিবার  সাত সকালে তিনি জমিতে লাগানো গাছ দেখতে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি হাতির সামনে পড়ে যান। হাতিটি তাঁকে আক্রমণ করে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার ছাতনা এলাকা থেকে দলছুট একটি হাতি রাতে পুঞ্চা এলাকায় ঢুকে পড়ে। এদিন সকালে বাহাদুরবাবু নিজের জমিতে লাগানো গাছ দেখতে যান। সেখানেই তিনি হাতির হামলার শিকার হন বলে গ্রামবাসদের দাবি। পুঞ্চা ব্লক অফিসের কাছে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। এরপর তাঁকে স্থানীয় পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। সেখানেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। পরে পুলিস দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া দেবেন মাহাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুঞ্চার রেঞ্জ অফিসার প্রভাস হালদার জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে।
এদিন সকালে ওই ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে পুঞ্চা এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। এরপর ওই দলছুট হাতিটি পুঞ্চা থেকে কংসাবতী নদী পেরিয়ে মানবাজার রেঞ্জের জিতুজুড়ির একটি জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। স্থানীয় মানুষজন হাতি দেখতে ভিড় জমায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুরুলিয়ার কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাত সহ মানবাজার রেঞ্জের বনকর্মীরা। বনদপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরাও সেখানে আসেন। এরপর ওই এলাকাতেও বনদপ্তরের তরফে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। জিতুজুড়ির শালদহির জঙ্গলের চারপাশে বনদকর্মীরা নজরদারি শুরু করেন। হাতিটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি দিয়ে ধরার জন্য তৎপর হয় বনদপ্তর। এর জন্য ডাকা হয় বিশেষ দলকে। ডাকা হয় হুলা পার্টির সদস্যদেরও। এদিন সন্ধ্যা নামতেই হাতিটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি ছুড়ে কাবু করা হয়। এরপর হাতিকে গাড়িতে তোলার জন্য তোড়জোড় শুরু করেনয় বনকর্মীরা। দুর্গম ওই জঙ্গলে গাড়ি যাওয়ার জন্য জেসিবি দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ