তিরুবনন্তপুরম, ২৫ অক্টোবর: মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কেরলের কোচিতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির। গতকাল গভীর রাতে বিচারকের ১৭ বছর বয়সি ছেলে একটি বিলাসবহুল গাড়ি চালানোর সময় পিছন থেকে সজোরে একটি স্কুটারে ধাক্কা মারে। মৃতের নাম জয়াবালাকৃষ্ণন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ মারফত জানা গিয়েছে, গতকাল প্রায় রাত ২টো থেকে ৩টের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ধাক্কার অভিঘাতে গাড়িটির সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক নাবালককে আটক করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ঘাতক বিলাসবহুল ওই গাড়িটি ওই বিচারকের নামেই নথিভুক্ত রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্ত নাবালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল না। কিন্তু তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং গাফিলতির কারণে মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মৃতের আত্মীয়ার দাবি, জীবন চলাচলের জন্য তিনি একটি খাবারের দোকান চালাতেন। দুর্ঘটনার সময় কাজ সেরে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন জয়াবালাকৃষ্ণন। অভিযোগ, বিলাসবহুল গাড়িটির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল। এরপর তা সজোরে গিয়ে স্কুটারটিতে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের জেরে স্কুটারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাতে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই জেরেই দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জয়াবালাকৃষ্ণন। আর এখানেই শেষ নয় দুর্ঘটনার পর থানায় বিচারকের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃতের আত্মীয়া। তাঁর অভিযোগ নাবালক ছেলেকে কেন গাড়ি চালাতে দেওয়া হয়েছিল সেই প্রশ্ন তোলায় বিচারক তাঁর সঙ্গে অসম্মানজনকভাবে কথা বলেন। বিচারকের আচরণের বিষয়টিও মাথায় রেখে তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর বিপদ সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করার কথাও বলেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে নাবালকের গাড়ি চালানো, সড়ক নিরাপত্তা এবং আইন মেনে চলার দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশি তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।



