নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী ও কন্যাকে খুনের চেষ্টা করে আত্মঘাতী হলেন নিমতার এক বৃদ্ধ। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম গৌরাঙ্গ আচার্য ওরফে বাবু (৬০)। মৃতের স্ত্রী মিলি ওরফে রুবি আচার্য (৪২) ও মেয়ে তৃষা (১১) আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মাথায় গভীর ক্ষত রয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, পাঁচ কেজির বাটখারা দিয়ে মাথায় আঘাত করায় বেশ কয়েকটি গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বৃদ্ধের বাড়ি উত্তর দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতাপগড় প্রাথমিক স্কুল লাগোয়া এলাকায়।
গৌরাঙ্গবাবু ওষুধের দোকানে কাজ করতেন। এছাড়া একটি মন্দিরে পুজো করার পাশাপাশি বিকেলের দিকে গৃহশিক্ষকতাও করতেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি কলকাতার মুচিপাড়ায়। স্থানীয়রা বলছেন, দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো। শুক্রবার সকাল থেকে ফের তাঁদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়েছিল। মিলিদেবী ফোন করে বাপের বাড়িতেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ মিলিদেবীর বাবা ও মা প্রতাপগড়ের জামাই বাড়িতে আসেন। কিন্তু বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। দরজার জোরে ধাক্কা দিতে তা খুলে যায়। তখন তাঁরা দেখেন, মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। ঘরের মধ্যে জামাইয়ের দেহ ঝুলছে। অন্য একটি ঘর থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসছে নাবালিকা নাতনি। তার সারা শরীর রক্তে মাখামাখি। মাথায় গভীর ক্ষত। তাঁরা দ্রুত নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে নিমতা থানায় যান। পুলিস দ্রুত ওই নাবালিকাকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এরপর বাড়ি থেকে অচেতন মিলিদেবী ও ঝুলন্ত গৌরাঙ্গবাবুকে উদ্ধার করে সাগর দত্তে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক গৌরাঙ্গবাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। মিলিদেবীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পুলিস প্রাথমিকভাবে জেনেছে, ঝামেলা চলার সময় পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারা দিয়ে ওই বৃদ্ধ প্রথমে স্ত্রীর মাথায় বেশ কয়েকবার আঘাত করেন। এরপর মেয়ের মাথায় আঘাত করার পর গলায় দড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হন। কমিশনারেটের এডিসিপি (সাউথ) অনুপম সিং বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে ওই ব্যক্তি স্ত্রী ও কন্যাকে প্রথমে খুনের চেষ্টা করেন। পরে নিজে আত্মঘাতী হন। গৃহবধূ ও নাবালিকার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।