নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পশ্চিমপাড়ায় জমি বিবাদের জেরে এক প্রৌঢ়কে পিটিয়ে খুন করা হল। মৃতের নাম গণেশ সরকার(৫০)। খুনের ঘটনায় প্রতিবেশী তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিস। ধৃতদের নাম গোপালকৃষ্ণ হালদার, তাপসী হালদার ও মন্টু হালদার। রবিবার তারমধ্যে দু’জনকে কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ, সোমবার আর একজনকে আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিস জানিয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় সরকার পরিবার ও হালদার পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। মারা যাওয়ার আগে গণেশবাবুর বাবা তাঁর দুই ছেলে ও স্ত্রীর নামে বাড়ির পাশের জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়ে যান। কিন্তু, তাতে আপত্তি জানান হালদার পরিবারের সদস্যরা। তারা দাবি করে, ওই জমি তাদের। জানা গিয়েছে, শনিবার ওই জমি ও জায়গা পুলিসের উপস্থিতি মাপজোক করা হয়। রাতে গণেশবাবুর ছোট ভাই রঞ্জিত সরকার বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের কাছে হালদার পরিবারের লোকজন চড়াও হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোতোয়ালি থানার পুলিস আসে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুলিস ফিরে যায়। এরপর আবার তাদের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। তখন মন্টু হালদার বাঁশ দিয়ে গণেশবাবু মাথায় আঘাত করে। গুরুতর জখম অবস্থায় গণেশবাবুকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। তারপর গণেশবাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। পুলিস শনিবার রাতেই গোপালকৃষ্ণ ও তাপসীকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার সকালে মূল অভিযুক্ত মন্টু হালদারকে গ্রেপ্তার করে। গণেশ সরকারের ভাই রঞ্জিত সরকার বলেন, ওরা বলছিল জমি নাকি ওদের। যার জন্য আমি কোর্টে মামলা করেছিলাম। শনিবার তার তদন্তের জন্য পুলিসও গিয়েছিল। পুলিস চলে যাওয়ার পরই ওরা আমাদের গালাগালাজ করছিল। তারপর হঠাৎ আমাদের মারধর করতে শুরু করে।