সংবাদদাতা, মানকর: একাধিকবার আবেদন করেও মিলছে না বার্ধক্য ভাতা। আউশগ্রাম-২ ব্লকের কোটা পঞ্চায়েতের গোপালমাঠ এলাকার বাসিন্দা প্রৌঢ় দম্পতি ধনকৃষ্ণ মন্ডল ও অঞ্জলি মন্ডলের অভিযোগ, অনেকবার আবেদন করেছি। কিন্তু বার্ধক্য ভাতা পাইনি। এই ভাতার জন্য বহু দিন ধরে ঘুরছি। কিন্তু কোনও সুরাহা হচ্ছে না। স্থানীয় পঞ্চায়েত বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধনকৃষ্ণবাবু চাষবাস করে জীবনধারণ করতেন। পরে বয়সের ভারে কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন। সরকারের মাসিক এই প্রকল্প পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পাননি। তাঁর ছেলে স্বরূপ মন্ডল বলেন, বলরামপুরে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প সহ মোট আটবার আবেদন করেছি। কিন্তু বাবা কেন ভাতা পাচ্ছেন না বুঝতে পারছি না। ব্লক অফিসেও গিয়েছিলাম। কিন্তু লাভ হয়নি। তিনি জানান, বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ। আমি বেসরকারি সংস্থার অস্থায়ী কর্মী। একটি দুর্ঘটনার পর থেকে আমি নার্ভের রোগী হয়ে গিয়েছি। পরিবারে ওষুদের ব্যাপক খরচ হয়। ভাতার টাকা পেলে উপকার হবে। ধনকৃষ্ণবাবু জানান, একসময় তাঁর ও স্ত্রীর একসঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। অনেকেই বলেছিল সেজন্য টাকা আসছে না। পরে আলাদা করে অ্যাকাউন্ট করে ফের একাধিকবার আবেদন করি। কিন্তু লাভ হয়নি। তিনি বলেন, প্রথমদিকে আমাদের সঙ্গে যাঁরা বার্ধক্য ভাতার আবেদন করেছিলেন তাঁরা পাচ্ছেন। কিন্তু আমি ও আমার স্ত্রী পাচ্ছি না। তিনি বলেন, আমার মাটির বাড়ির অবস্থা খারাপ। যে কোনওদিন চাপা পড়ে যাব। আমাদের জমি-জায়গা সেভাবে নেই। কাজেই বার্ধক্য ভাতার টাকা চিকিৎসা বা ওষুধের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে অনুদানের অর্থ পেলে সংসারে সুবিধা হবে। অঞ্জলিদেবী বলেন, আমার ছেলে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে। তা-ও প্রতিদিন কাজ পায় না। খুব কষ্ট করে সংসার চলছে। কোটা পঞ্চায়েতের প্রধান ইন্দিরা চক্রবর্তী বার্ধক্য ভাতার বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। আউশগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও চিন্ময় দাস বলেন, ব্লকের বেশ কিছু মানুষের একই সমস্যা রয়েছে। অনুমোদন পেলেই টাকা পাবেন।