নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার পঞ্চসায়র থানা এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতির রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল রবিবার দুপুরে। বাড়ির ভিতর থেকে ৭৪ বছরের বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ এবং তাঁর ৬৪ বছরের স্ত্রীর দেহ বিছানা থেকে উদ্ধার করা হয়। কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির ১২ বছরের ছেলে ছিল। যাঁর দীর্ঘদিন আগে কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু হয়। সন্তানকে হারানোর পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি। কার্যত কারও সঙ্গে খুব একটা মেলামেশাও করতেন না তাঁরা। মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি অসুস্থতার কারণে দু'জনেরই শারীরক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। এমনকি কয়েকদিন আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ওই ৭৪ বছরের বৃদ্ধ। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীও সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। দু'দিন আগে হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল।
এদিন সকালে ওই বৃদ্ধার বোন দিদি ও জামাইবাবুর সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাড়িতে আসেন। বেশ কয়েকবার কলিং বেল বাজালেও ভিতর থেকে কেউ দরজা খোলেননি। এরপর জামাইবাবুর মোবাইলে ফোন করেন তিনি। ফোনের আওয়াজ বাড়ির ভিতর থেকে শোনা গেলেও কেউ ফোন ধরেননি। দরজাও খোলেননি। সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির পিছনের দিকে গিয়ে জানলার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন ওই মহিলা। তখনই তিনি জামাইবাবুকে ঘরের ভিতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পঞ্চসায়র থানায়। পুলিশ এসে ভিতর থেকে বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। সেখানে বিছানার উপর বৃদ্ধার দেহ এবং ঝুলন্ত অবস্থায় বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার হয়।
তবে বৃদ্ধার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তিনি সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরেছিলেন। ফলে অসুস্থতার কারণে বিছানাতেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। আবার অন্য কোনও সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। স্বামী তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে থাকতে পারেন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত ঘুমের ওষুধের কোনও খালি স্ট্রিপ পাওয়া যায়নি। দম্পতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে মনে করছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।