নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দম্পতিকে খুনের ১০ বছর পর ফাঁসির সাজা দেওয়া হল যুবককে। চিৎপুরের ওই দম্পতিকে লোহার পাইপ দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয় ২০১৫ সালে। দোষী সাব্যস্ত যুবক সঞ্জয় সেন ওরফে বাপ্পা (৪৫) কে ফাঁসির সাজা দিল আদালত। পাইকপাড়ার ওই যুবকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল দম্পতির বাড়িতে। নানা প্রয়োজনে দম্পতি সাহায্য করতেন সঞ্জয়কে।
বুধবার শিয়ালদহের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ফ্ল্যাট থেকে টাকা ও সোনার গয়না লুটপাটের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় যুবককে। সঙ্গে দশ হাজার টাকা জরিমানা। মৃত্যুর আদেশ শুনেও যুবকের হেলদোল দেখা যায়নি। তবে রায়ের পরে এজলাসের বাইরে কাঁদতে দেখা যায় যুবকের দুই মেয়েকে। উল্লেখ্য, শিয়ালদহ আদালতের এই বিচারকই আর জি কর কাণ্ডে অপরাধীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার আগে এদিন বিচারক সঞ্জয়ের বক্তব্য জানতে চান। যুবক বলে, ‘বাড়িতে বউ ও দুই মেয়ে রয়েছে। রোজগারের কেউ নেই। আমাকে কম সাজা দেওয়া হোক।’ সরকারি কৌঁসুলি সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নিরাপত্তারক্ষীর ক্ষেত্রেও এমনই বিশ্বাসভঙ্গের নজির দেখা গিয়েছিল। সেখানেও রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছিল। আর এই অপরাধীও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বৃদ্ধ দম্পতি তাকে সন্তানের মতো ভালোবাসতেন, নানা সময় সংসার চালানোর খরচ দিয়েছেন। অথচ পরিণতি হল নৃশংস। অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক।’
বিচারক বলেন, ‘সরকার পক্ষ মামলার শুনানির সময় মৃত বৃদ্ধ দম্পতির যে ছবি কোর্টে পেশ করে, তা ছিল ভয়ানক। আদালতের মনে হয়েছে, এটি বিরল থেকে বিরলতম ঘটনা। সেই কারণে কড়া সাজা দেওয়া হল।’ রায় শুনে মৃত প্রাণগোবিন্দ দাসের ভাইপো অভিযোগকারী পার্থ সেন বলেন, ‘আদালত ও কলকাতা পুলিসের কাছে কৃতজ্ঞ। অপরাধী কড়া সাজা পাওয়ায় আমরা খুশি।’ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের কৌঁসুলি অমর্ত্য দে বলেন, ‘এই রায়ে আমরা খুশি নই। উচ্চ আদালতে আপিল মামলায় যাব।’
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে ১৫ জুলাই সন্ধ্যাবেলা জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে চিৎপুরের রানি দেবেন্দ্রবালা রোডের একটি আবাসনে। প্রাণগোবিন্দ দাস ও রেনুকা দাস নামে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে খুনের পর টাকা ও সোনাদানা নিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায় সঞ্জয়। ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং অবাসানের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় যুবককে। উদ্ধার হয় খুনে ব্যবহৃত লোহার পাইপ। মামলার চার্জশিটে পুলিস ২৯ জনকে সাক্ষী করে। তার মধ্যে অন্যতম সাক্ষী ছিলেন মৃত দম্পতির আমেরিকায় থাকা একমাত্র কন্যাও।