নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রেললাইনের ধারেই নিজস্ব জমিতে ছোট্ট বাড়ি তাঁদের। বাড়িটির অবস্থান এমন যে কোথাও যেতে গেলে রেললাইন ধরে হেঁটে যেতে হবে বা লাইন টপকাতে হবে। সেটাই কাল হল প্রৌঢ় দম্পতির! বুধবার সকালে কোনও কাজে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। রেললাইন পেরতে গিয়ে শিয়ালদহগামী ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দু’জনের দেহ। মছলন্দপুর ও সংহতি স্টেশনের মাঝে এদিন সকালে এই ঘটনা ঘটে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতরা কৃষ্ণ মজুমদার (৬১) ও তাঁর স্ত্রী গৌরী মজুমদার (৫২)। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিস। বনগাঁ জিআরপি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বনগাঁ বা বসিরহাট লাইনে বিভিন্ন জায়গায় রেললাইনের পাশে বস্তি রয়েছে। সেখানে মানুষকে দিনের পর দিন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করতে হয়। ট্রেনের বিকট শব্দে ঠিকমতো ঘুম হয় না। ট্রেনে কাটা পড়ার আতঙ্ক সবসময় তাড়া করে। তাছাড়া, রেললাইনের অদূরে নিজস্ব জমিতে বাড়িঘর করে এমন বহু মানুষ বসবাস করেন, যাঁদের যাতায়াতের জন্য লাইন টপকাতে হয়। গোবরডাঙার সোলুয়া ৩ নম্বর কলোনির মজুমদার দম্পতির বাড়ি সেরকমই একটি জায়গায়। ‘দিন আনা দিন খাওয়া’ পরিবার বলা চলে। তাঁদের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। একজন থাকেন টালিগঞ্জে। অন্যজন ইছাপুরে। নিতান্তই ছাপোষা মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত তাঁরা। বুধবার সকাল ছ’টা নাগাদ রেললাইন ধরে কোথাও যাচ্ছিলেন তাঁরা। শিয়ালদহগামী ডাউন ট্রেন চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দেখতে পান, মজুমদার দম্পতির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে রেললাইনে। প্রতিবেশীদের কথায়, ‘ওঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি হতে দেখিনি। তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হয় না। সেরকম কোনও মানসিক টানাপোড়েন আমরা টের পাইনি।’ স্থানীয়রাই প্রথম দুর্ঘটনার খবর দেন রেল পুলিসকে। বনগাঁ জিআরপি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। স্থানীয় বাসিন্দা পূর্ণেন্দুশেখর বিশ্বাস বলেন, ‘এই দম্পতি একেবারে নিরীহ মানুষ। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। রেললাইন পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় এভাবে মৃত্যু, ভাবতে পারছি না।’ তবে তাঁরা রেললাইন ধরে কোথায় যাচ্ছিলেন, তা জানা যায়নি।
বনগাঁ জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনের ধাক্কাতেই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দুই মেয়ে এসে দেহ শনাক্ত করেছেন।’