সংবাদদাতা, কান্দি: পিঠে স্কুলব্যাগ যদি থাকে তবে টোটোয় চড়লে ভাড়া দিতে হবে না। আবার বয়সের ভারে চলতে না পারলেও ভাড়া লাগবে না। সম্প্রতি কান্দি শহরে এমন দুই টোটো চালককে দেখা গিয়েছে। যাঁরা ওই দুই শ্রেণির যাত্রীদের কাছে থেকে কোনো ভাড়া নিচ্ছেন না। তাঁদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন আরও অনেক টোটো চালক। সম্প্রতি শহরের টোটো ইউনিয়নে কাছে আবেদন করে পুজোর আগে তাঁরাও এভাবে মানুষের পরিষেবা দিতে চান বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরের দু’টি টোটোয় স্কুল পড়ুয়াদের ও প্রবীণদের কাছে কোনো টোটো ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ছে। একজন হলেন পুলক মণ্ডল ওরফে বাঁকু। কান্দি শহরের জেমো বিশ্বাসপাড়ার বাসিন্দা। বছর ২৪এর ওই যুবক কান্দি রাজ কলেজ থেকে বিএ পাশ করে টোটো চালাচ্ছেন। বাড়িতে বাবা, মা ছাড়াও স্ত্রী রয়েছে। বাবা সন্তোষ মণ্ডল পেশায় চাষি। পুলক বলেন, অভাবের মধ্যে থেকেও মন থেকে মানুষের জন্য কিছু করার কথা ভেবেছিলাম। সাধ্যের মধ্যে রেখে বিনা ভাড়ায় টোটো পরিষেবা দিয়ে কিছু চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে আমাকে দেখে যদি কেউ অনুপ্রাণিত হয়, তাহলে ভালো লাগবে। পুলকের স্ত্রী সিটু মণ্ডল বলেন, স্বামীর এমন কাজের জন্য নিজের গর্ববোধ হয়। যতক্ষণ সক্ষমতা থাকবে উনি এই পরিষেবা চালিয়ে যাবেন বলে আশা করি। অন্যদিকে শহরের মোহনবাগান পাড়ার যুবক সাদিকুল শেখ ওরফে কালু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে একইভাবে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সাদিকুল জেমো শ্রীবিষ্ণু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছেন। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল করার পর আর পড়াশুনার দিকে এগোয়নি। টোটো চালিয়ে সংসারের হাল ধরেন। তাঁর বাবা আফাজউদ্দিন শেখও টোটো চালক। সাদিকুল বলেন, নিজের পড়াশুনা বেশিদূর এগোয়নি। তাই ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই উৎসাহ দিতে ইচ্ছে করে। নিজের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু পারছি করে যাচ্ছি। অন্যদিকে ভাড়া দিতে অক্ষম প্রবীণদের কষ্টও নিজে উপলব্ধি করেছি। সেখান থেকেই প্রবীণদেরও বিনা ভাড়ায় যাত্রার সুযোগ করে দিয়েছি। যতদিন পারব এভাবেই চালিয়ে যাব।
এদিকে ওই দুই টোটো চালকের পরিষেবায় অনুপ্রাণিত হয়ে কান্দি বিধানসভা এলাকার অনেক টোটো চালক একইভাবে পরিষেবা দিতে চান বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি কান্দি টোটো ইউনিয়নের কাছে টোটো চালকদের একাংশ লিখিত আবেদনও করেছেন। টোটো ইউনিয়নের সম্পাদক মিরাজ শেখ বলেন, কয়েকদিনে কান্দি বিধানসভা এলাকার প্রায় ৩০জন টোটো চালক এভাবে পরিষেবা দিতে চান বলে আবেদন করেছেন। টোটো ইউনিয়ন থেকে ওঁদের অনুপ্রেরণাও দেওয়া হচ্ছে।