Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

এলআইসি, নিউ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব-সিন্ধ ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ শেয়ার বিক্রিই ভরসা কেন্দ্রের

এলআইসি, নিউ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব-সিন্ধ ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ শেয়ার বিক্রিই ভরসা কেন্দ্রের
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ক্রমেই কমছে টার্গেট। তবু হাল ছাড়ছে না কেন্দ্র। নতুন আর্থিক বছরে পা রাখার আগেই বিলগ্নিকরণের নয়া নীতি বাস্তবায়নে ঝাঁপাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। রাজকোষ তো ভরতে হবে! তাই সরকারি ব্যাঙ্ক, বিমা ও সংস্থা মিলিয়ে অন্তত ছ’টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সরকারি অংশীদারিত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সংস্থাগুলির বিলগ্নিকরণ তথা বেসরকারিকরণের টার্গেট অনেক আগে থেকেই রয়েছে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা এতদিন ধরেও রূপায়িত হয়নি। কিন্তু এবার মরিয়া হয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যেই বেশ কিছু বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় মোদি সরকার। বড়সড় বিলগ্নিকরণ কর্মসূচি যেহেতু বাস্তবায়িত হচ্ছে না, তাই আপাতত শেয়ার বিক্রির প্ল্যানই চূড়ান্ত করে ফেলেছে তারা। ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক, পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক, নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স, জেনারেল ইনস্যুরেন্স এবং সর্বোপরি এলআইসি’র কিছু শেয়ার বিক্রি করবে সরকার। এই লক্ষ্যে একটি বিশেষ উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শদাতা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি স্থির করবে কবে, কীভাবে এবং কত অংশ শেয়ার বিক্রি করা সম্ভব। এই শেয়ার বিক্রির কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সিকিওরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (সেবি) বিধিনিয়মের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি সংস্থার একটি নির্দিষ্ট হারের শেয়ার বেসরকারি হাতে থাকতে হবে। প্রশ্ন হল, বহু বছর ধরেই এইসব সংস্থা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত। তাহলে এতদিন সেই বিধিনিয়ম মান্য করা হয়নি কেন? কেনই বা বেছে বেছে সেই সব সংস্থাকে এই শেয়ার বিক্রির তালিকায় রাখা হচ্ছে, যেগুলি সরকারের বিলগ্নিকরণের খসড়ায় রয়েছে? আদতে বেসরকারিকরণ করতে না পেরে এবার ধীরে ধীরে এসব সংস্থার শেয়ার বিক্রির পর্ব শুরু হচ্ছে না তো? সদ্য ঘোষিত বাজেটে এক বছরে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে ৪৭ হাজার কোটি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে, এটা কি তারই ব্লু-প্রিন্ট? 
Advertisement
২০২০ সালে বলা হচ্ছিল, ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকার বিলগ্নিকরণ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং ব্যাঙ্ক বেসবকারিকরণ করে আয়ের টার্গেট। কেন এই বিপুল টার্গেট, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবং প্রত্যাশিতভাবেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার প্রশ্নই ছিল না। উল্টে দেখা গিয়েছিল, ভারতের ব্যাঙ্কিং সেক্টর বিপুল মুনাফা করেছে পরবর্তী বছরে। এবং একের পর এক সরকারি সংস্থাও মুনাফা করে লভ্যাংশ তুলে দিচ্ছে সরকারের হাতে। ২০২২ সালে শেষবার এলআইসির শেয়ার বিক্রি হয়েছিল। প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা তার থেকে আয় করেছে সরকার। আবার এলআইসিকে কেন বাছা হচ্ছে? ঠিক যখন দেড় মাস ধরে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে, তখনই সরকারি সংস্থা এবং বিশেষ করে ৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন থাকা এলআইসির আবার আইপিও কেন আনা হচ্ছে? ৯০০ টাকা দিয়ে যারা এলআইসির প্রারম্ভিক শেয়ার কিনেছিলেন, তাঁরা মুনাফার মুখ দেখেননি। শেয়ার বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত অন্য সংস্থা বা ব্যাঙ্কের সঙ্গে ব্র্যান্ডভ্যালু এবং সম্পদের নিরিখে এলআইসির তুলনাই আসে না। তাহলে শেয়ার বাজারের অনিশ্চিত আচরণের সময়ই আবার এলআইসির মতো সংস্থার শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত?
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ