Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একটি ‘সই’ ধরিয়ে দিল আন্তঃরাজ্য গাড়ি কেনার প্রতারণা চক্রকে, গ্রেপ্তার ৬ চাঁই

একটি ‘সই’ ধরিয়ে দিল আন্তঃরাজ্য গাড়ি কেনার প্রতারণা চক্রকে, গ্রেপ্তার ৬ চাঁই
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
শ্যামল সেন, হলদিয়া: ঠিক যেন থ্রিলার সিনেমার রুদ্ধশ্বাস প্লট! সত্যজিৎ রায়ের ‘বাদশাহী আংটি’ উদ্ধারের গল্পও যেন হার মানবে! শুধু গল্পের নায়কই যা আলাদা। ফেলুদার বদলে এক তরুণ পুলিস আধিকারিক। একটা ‘সই’-এর সূত্র ধরে ফাঁস করে দিলেন আন্তঃরাজ্য গাড়ি কেনাবেচা সংক্রান্ত একটি প্রতারণা চক্র। জালে তুলেছেন গাড়ি সহ সেই চক্রের ছ’জন পাণ্ডাকেও। ওই তরুণ আধিকারিকের তদন্ত-পদ্ধতি নিয়ে জোর চর্চা চলছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিস মহলে। বাহবা দিচ্ছেন পুলিস কর্তারা। কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রতারিতরও। 
Advertisement
প্রায় ১৪ মাস আগে ঘটনার সূত্রপাত সুতাহাটা থানায়। একটি নামজাদা অ্যাপের মাধ্যমে সেকেন্ড গাড়ি কেনাবেচার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল ওই চক্রটি।   
ভুয়ো ডিমান্ড ড্রাফ্ট দিয়ে গাড়ি হাতিয়ে নিত। এরপর ওই চোরাই গাড়ি ডিলারের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে যেত রাজ্যের নানা প্রান্তে। জাল ছড়িয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বাঁকুড়া সহ অন্যান্য জেলায়। প্রতারিত হয়েছিলেন সুতাহাটার সিজবেড়িয়ার বাসিন্দা আমজাদ আলি মল্লিক। তিনি অভিযোগ করতেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তদন্ত শুরু হয়। মাঝে তদন্তের গতি খেই হারিয়ে থমকে যায়। কিন্তু, নাছোড় ছিলেন হলদিয়ার এসডিপিও অরিন্দম অধিকারী। তিনি গোটা চক্রের জাল গোটাতে ভরসা রাখেন সুতাহাটার থানার তরুণ এএসআই পৃথ্বিশ গুচ্ছাইতের উপর। অরিন্দমবাবুর নির্দেশে পুলিসের একটি টিম নিয়ে তদন্তে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।  
এর মধ্যেই বাঁকুড়ার ছাতনা থানা এলাকায় ডিমান্ড ড্রাফ নিয়ে একটি গাড়ি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। বাঁকুড়া জেলা পুলিসের ফেসবুক পেজে ওই ঘটনার ছবি সহ দেখার পর নতুন করে নড়েচড়ে বসে সুতাহাটা থানা। সুতাহাটার বাসিন্দা আমজাদকে দেওয়া ডিমান্ড ড্রাফটের ‘সই’-এর সূত্র খুঁজতে বাঁকুড়ার ছাতনা থানায় যায় তদন্তকারী টিম। দু’টো ডিমান্ড ড্রাফটের হুবহু মিল দেখেই চক্ষুচড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। শুরু হয় অভিযান। ধরা পড়ে চারজন।  তাদের হেফাজতে নেয় সুতাহাটার পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদের পর বারুইপুরে যায় পুলিস। দেখা যায়, চক্রীদের দু’জন জেলবন্দী। তাদের পুলিস হেফাজতে নিয়ে জানা যায় ‘বলাই’ নামে কোনও ব্যক্তি নেই। প্রসঙ্গত, আমজাদকে যে ডিমান্ড ড্রাফটি দেওয়া হয়েছিল তাতে ‘বলাই দাস’ নামে এক ব্যক্তি সই করেছিল। তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়,  ধৃতদেরই কেউ নাম ভাঁড়িয়ে ফোন করে আমজাদকে। তাঁর কাছে গাড়ি কেনার পর তা এক ডিলারকে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে গাড়ি কেনেন নিউটাউনের এক বাসিন্দা, তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। সেই গাড়ির আবার নদীয়া জেলায় রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। পরে গাড়িটি বহু কাঠখড় পুড়িয়ে নানাভাবে লোকেশন ট্র্যাক করে উদ্ধার হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনলাইনে গাড়ি কেনাবেচার একটি অ্যাপে নিজের গাড়ি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন আমজাদ। অভিযোগ, ওই বিজ্ঞাপন দেখে ‘বলাই দাস’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার ভুয়ো ডিমান্ড ড্রাফ্ট দিয়ে গাড়ি হাতিয়ে নেয়। কৌতুহলবশত অক্টোবর মাসে আমজাদ ভেহিক্যাল ইনফরমেশন অ্যাপে খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন, গত মার্চ মাসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বদল হয়েছে। বিষয়টি তিনি সুতাহাটা থানার ওই আধিকারিককেও জানান। তারপরেই ছাতনা থানার ঘটনা। দু’টি ঘটনার মধ্যে মিল খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে আন্তঃরাজ্য এবং আন্তঃজেলা গাড়ি কেনার প্রতারণা গ্যাং। অভিযোগ, সেই চক্রের সঙ্গে লতায় পাতায় জড়িয়ে রয়েছে গাড়ির ডিলার সহ বিভিন্ন সংস্থা। এমনকী, পরিবহণ দপ্তরের একাংশের বিরুদ্ধেও চোরাই গাড়ির বেআইনি হাতবদল ও লাইসেন্স তৈরির অভিযোগ উঠেছে। 
(ধৃতদের সঙ্গে তদন্তকারীরা। নিজস্ব চিত্র)
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ