নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখায় বিজেপি সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকা না দিলে আগামী দিনে সংগঠন আরও বেশি ধাক্কা খাবে। তাই সংগঠনের স্বার্থে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। জামালপুরের মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, কয়েক দিন আগেই জামালপুরে হওয়া বৈঠকে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই চিঠি লেখা হবে। দলের আরেক নেতা বলেন, আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দেয় বলে অনেকেই জানতেন না। টাকা আটকে দেওয়ার পর বিষয়টি আমজনতা জানতে পারেন। বিষয়টি সামনে আসায় বিজেপির সাময়িক লাভ হয়েছিল। তারপর টাকা দিয়ে দিলে সংগঠনের পক্ষে ভালো হতো। কিন্তু তা না করে দীর্ঘদিন টাকা আটকে রাখার সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়টিই চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হবে।
Advertisement
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত দলের বহু নেতাই মেনে নিতে পারেনি। তারা বেশ কয়েকবার বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছিল। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। এরপরই তারা চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। সেই মতো সমীক্ষা শুরু হয়ে যায়। সেই কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসেই প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ১০০দিনের প্রকল্পের টাকাও দেয়নি। রাজ্য সরকার শ্রমিকদের বকেয়া টাকা দিয়েছে। আবাস যোজনা প্রকল্পে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সেসব রাজ্যে টাকা বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু বাংলাকে বঞ্চনা করার জন্যই এরাজ্যের টাকা বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু তাতে অসুবিধা নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের পাশে রয়েছেন। কিছুদিন পর থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আবাস যোজনা প্রকল্পে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলকে সুবিধা দেবে। বিজেপি নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। বিজেপির আরেক নেতা বলেন, সদস্যপদ সংগ্রহ করতে গিয়েও আবাস যোজনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা মিটিয়ে দিলে অন্যভাবে প্রচার করা যেত। বিজেপি এসসি মোর্চার নেতা রাজু পাত্র বলেন, দোতলা, তিনতলা বাড়ির মালিকদের নাম তৃণমূল নেতারা আবাস যোজনার তালিকায় রেখেছিল। পাকাবাড়ি থাকার পরও আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে। রাজ্য সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিলে উপভেক্তাদের সমস্যায় পড়তে হতো না। তৃণমূল সরকার টাকা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।
কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চয়ই আবাস যোজনা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করবে। জামালপুরের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, তৃণমূলের তৈরি করা তালিকায় অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা চাই ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার টাকা পাঠাক। আমাদের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি তাঁরা নিশ্চয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চয়ই আবাস যোজনা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করবে। জামালপুরের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, তৃণমূলের তৈরি করা তালিকায় অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা চাই ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার টাকা পাঠাক। আমাদের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি তাঁরা নিশ্চয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।



