নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হাসপাতালে এক্স রে মেশিনটির বয়স ঠিক কত? বিস্তর মাথা চুলকেও মেশিনটির বয়স বলতে পারলেন না কর্মীরা। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের এক্স রে মেশিনটি যে কোনও সময়ে দেহ রাখতে পারে। কিন্তু পরিষেবা দিতে আপাতত সেই বৃদ্ধ এবং জীর্ণ মেশিনই ভরসা। ভৌগোলিক কারণে নদীয়া জেলায় রানাঘাট শহর ঠিক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালটিও। কারণ, রানাঘাট শহরের বাসিন্দা ছাড়াও আনুলিয়ায় অবস্থিত এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল রানাঘাট মহকুমার দূর দূরান্তের মানুষ। একদিকে, সীমান্ত এলাকা ধানতলার দত্তপুলিয়া, কিংবা হাঁসখালির বগুলা, বহিরগাছি থেকে রানাঘাট ২ ব্লকের গাংনাপুর, কুপার্স ক্যাম্প সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যেমন এই হাসপাতালের উপরেই নির্ভরশীল, তেমনই রানাঘাট ১, শান্তিপুর ব্লকগুলি থেকেও প্রতিদিন বহু মানুষের অগতির গতি এই হাসপাতাল। সাম্প্রতিককালে স্বল্প পরিকাঠামোয় বেশ কিছু জটিল অস্ত্রোপচার করে তাক লাগিয়ে দেওয়ায় এই হাসপাতালের উপর বেড়েছে রোগীদের আস্থা। কিন্তু আস্থা বাড়লেও পরিকাঠামো বাড়ছে না। কারণ এক্স রে শুধুমাত্র হাত ভেঙেছে বা পা ভেঙেছে কিনা তা জানতেই নয়, শল্য বিভাগের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। বহু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের আগে এক্স রে করার প্রয়োজনীয়তা থাকে। কোন পথে অস্ত্রোপচার হবে তা পূর্ব নির্ণয় করতে সক্ষম এক্স রে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, এক্স রে প্লেট প্রিন্টিং মেশিনটি সাম্প্রতিককালে ডিজিটাল হলেও স্পষ্ট ছবি আসছে না। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, মূল মেশিনটির বয়স প্রায় ৩৫ বছর। এত পুরনো মেশিন হওয়ার কারণেই স্পষ্ট এক্স রে হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন, মেশিনটি আর ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। এবার খারাপ হলে তা আর সারানো যাবে না। ফলে যে কোনও দিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে রানাঘাট মহাকুমা হাসপাতালে এক্স রে পরিষেবা। তবে যেহেতু রোগীর চাপ অনেক, সেহেতু বাধ্য হয়েই সেই মান্ধাতার আমলের নড়বড়ে মেশিন দিয়েই পরিষেবা চালু রাখতে হয়েছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো ছবির পেতে রোগীরা বাইরে থেকে এক্স রে করে নিয়ে আসেন। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানিয়েছি। নতুন মেশিন চাওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে নতুন মেশিন দ্রুত ইনস্টল করা যায়। আপাতত ওই মেশিন দিয়ে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সামগ্রিকভাবে রানাঘাট মহাকুমা হাসপাতালের চিকিৎসার মানোন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে।



