সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: একটি মাত্র শৌচাগার নির্মাণ হয়েছিল। কিন্তু গত দু’বছরেও সেটি চালু করা যায়নি। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুরের যত্রতত্র শৌচকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছেন পুণ্যার্থী থেকে পর্যটকরা। পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহিরাগত পুণ্যার্থীদের কথা ভেবে হুলোর ঘাট থেকে ইসকনের পথে অবিলম্বেই চালু করা হোক এই শৌচাগার।বছর দুয়েক আগে প্রায় চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতি থেকে বহিরাগত পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের কথা ভেবে তৈরি করা হয় একটি শৌচাগার। মায়াপুর হুলোরঘাট থেকে আসার পথে ইসকন মন্দিরের প্রভুপাদ স্নানের ঘাটের কাছে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথকভাবে শৌচকর্ম, স্নানের ব্যবস্থা এবং কাপড় পরিবর্তনের জন্য মোট ৬টি ঘর তৈরি করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি চালু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, মায়াপুর হুলোরঘাট থেকে গৌরনগর কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় দু› কিলোমিটার পথে আর কোন শৌচাগার নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রহ্লাদ জীবন দাস বলেন, মায়াপুরে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ আসেন। সকলেই শৌচকর্ম নিয়ে সমস্যায় পড়েন। পূর্ব বর্ধমানের স্টেশন এলাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে মায়াপুরে ঘুরতে এসেছিলেন স্নেহা বিশ্বাস। তিনি বলেন, মহিলাদের শৌচকর্মের বিষয়টা নিয়ে সব জায়গাতেই সমস্যা হয়। কিন্তু এখানে তো একটা শৌচাগার তৈরি করে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী যিশু ঘোষ, শীতল ঘোষ এবং মদন দাসরা বলেন, শৌচাগারের সামনে এখন অস্থায়ী দোকানও বসে গিয়েছে। এখানে দু’বছর আগেই তৈরি হয়েছে বাথরুম, পায়খানা, কাপড় ছাড়ার জায়গা। কিন্তু এখনও সেটি চালু করেনি। অনেকেই বাধ্য হয়ে মঠ মন্দিরে শৌচকর্ম করতে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার গঙ্গার ধার বা ফাঁকা জায়গা খুঁজছেন। এটা এখানকার লজ্জা বলতে পারেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মণ্ডল বলেন, প্রতিদিনই প্রচুর লোক আসেন মায়াপুরে। তাদেরকে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি বারবার পঞ্চায়েত মিটিংয়ে বলেছি। মায়াপুর-বামুনপুকুর দু’নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান মৈত্রেয়ী ঘোষ বলেন, আমরা খুব শীঘ্র এটি চালু করে দিচ্ছি। নবদ্বীপ পঞ্চায়েতের সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, আমরা পঞ্চায়েতকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। দু’একবার আমরা এটা চালু করার চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু ওখানে জলের সমস্যা রয়েছে। পাইপ লাইনের কাজ চলছে। জলের সমস্যার কারণে এটি চালু করা যায়নি। তবুও আমরা পঞ্চায়েতকে ব্যবস্থা নিতে বলছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।



