Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একমাসে আড়াই হাজার নববধূ পেলেন রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা

একমাসে আড়াই হাজার নববধূ পেলেন রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: অগ্রহায়ণ মাস মানেই বিয়ের হিড়িক। ব্যতিক্রম নয় নদীয়া জেলাও। সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন বহু তরুণ-তরুণী। বহু ক্ষেত্রে তাঁদের নবজীবন শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের সহযোগিতায়। বিয়ের মাস শেষ হতেই দেখা যাচ্ছে, নদীয়া জেলার আড়াই হাজার নববধূর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা। উপভোক্তার নিরিখে এই সংখ্যাতথ্য রেকর্ড গড়েছে বলে মত প্রশাসনিক মহলের। মেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া কয়েক হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য। সব মিলিয়ে সরকারের খরচ হয়েছে ৬ কোটি টাকারও বেশি। এখনও রূপশ্রীর টাকা প্রাপকদের হাতে তুলে দিতে  চূড়ান্ত ব্যস্ততা প্রশাসনের আধিকারিকদের। 
Advertisement
নদীয়া জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন,‘ রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদন খতিয়ে দেখা হয়েছে। যাঁদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা দ্রুত পোঁছে যাবে।’ 
নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিয়ের মরশুম। তাই প্রতিবার বছরের এই সময়টা রূপশ্রী প্রকল্পে টাকা ছাড়ার তৎপরতা বাড়ে। কারণ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। যা মেয়ের পরিবারে বিয়ের খরচের  বোঝা অনেকটাই লাঘব করে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে নভেম্বর মাসের ২১ তারিখ থেকে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রূপশ্রী প্রকল্পে আড়াই হাজার আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় এক হাজার জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ২৫ হাজার টাকা করে পৌঁছে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। যেখানে গতবছর এই সময় এক হাজার ৯০০ জন নব্য বধূকে রূপশ্রী প্রকল্পে টাকা পেয়েছিলেন।  
রাজ্যে ট্যাপ কেলেঙ্কারির এবছর রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা প্রাপকদের হাতে ঠিকঠাক পৌঁছে দিতে অতি সতর্ক ছিল জেলা প্রশাসন। জেলায় অতীতে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা ফন্দিফিকির করে একাধিকবার হাতানোর বিষয়টি সমানে আসে।‌ যাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যও ছড়ায়। জাল ম্যারেজ সার্টিফিকেট বানিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগও উঠেছিল দফায় দফায়। এবার সেই অসৎ উদ্দেশ্য রুখতে রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদন অনুমোদন করার আগে ভালো করে খতিয়ে দেখে প্রশাসনের আধিকারিকরা। এক আধিকারিক বলছিলেন, ‘বর্তমানে সবটাই হয় এআই পদ্ধতিতে। তাই কেউ সার্টিফিকেট নিয়ে জালিয়াতি করলে তৎক্ষণাৎ ধরা পড়ে যায়। বিগত এক মাস বিয়ের মরশুম ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই রূপশ্রী প্রকল্প টাকা ছাড়া নিয়ে কাজের চাপ ছিল। তাড়াহুড়োর মধ্যে যাতে অযোগ্য কেউ টাকা না পান, সেই নিয়ে আমরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছি।’
রূপশ্রী প্রকল্পে নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের দিন পেরিয়ে গেলে আবেদনকারীর তথ্য আপলোড করা যায় না। তাই আবেদন জমা পড়লেই আধিকারিকের দ্রুত তা পরীক্ষা করতে হয়। যাতে বিয়ের আগেই পাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ঢুকতে পারে।
সম্পর্কিত সংবাদ