Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসের উদ্যোগে শুরু ‘একলব্য’

‘তু আইপিএস বান গয়া রে’–টুয়েলফথ ফেল সিনেমার সেই সিনটার কথা মনে আছে? জেদ, অধ্যবসায় আর সংগ্রামের জোরে পরীক্ষায় সফল হয়ে নায়ক তাঁর মা’কে ফোন করছেন। আনন্দাশ্রু ঝরে পড়ছে মায়ের চোখ থেকে।

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসের উদ্যোগে শুরু ‘একলব্য’
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘তু আইপিএস বান গয়া রে’–টুয়েলফথ ফেল সিনেমার সেই সিনটার কথা মনে আছে? জেদ, অধ্যবসায় আর সংগ্রামের জোরে পরীক্ষায় সফল হয়ে নায়ক তাঁর মা’কে ফোন করছেন। আনন্দাশ্রু ঝরে পড়ছে মায়ের চোখ থেকে। আর নায়কের চোখে-মুখে যুদ্ধজয়ের তৃপ্তি। জেদ আর অধ্যবসায় থাকলে যেকোনও প্রতিকূলতাকেই জয় করা সম্ভব। সেটাই দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়। সিনেমার সেই চিত্রনাট্য বাস্তবায়িত করুক পূর্ব বর্ধমানের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েরাও। সেই উদ্দেশ্যে শনিবার থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘একলব্য’। তফসিলি সম্প্রদায়ের ৯০জন ছাত্রছাত্রীকে নামী একটি সংস্থায় বিনামূল্যে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছে পুলিস। ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এদিন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, আমাদের দৃঢ বিশ্বাস, কোচিং নিয়ে কেউ আইএএস, আবার কেউ আইপিএস বা ডব্লুবিসিএস অফিসার হবেন। আপাতত গুসকরা ও মেমারিতে কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেকেই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়ে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ পড়ুয়াদের সামনে বলেন, জীবন সহজ নয়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য লড়াই করতে হবে। আমাদেরও অনেক সংগ্রাম করে এই জায়গায় আসতে হয়েছে। কীভাবে লড়াই করতে হয়, তার জন্য ‘টুয়েলফথ ফেল’ সিনেমাটা দেখা উচিত। সফল হওয়ার জন্য জেদ রাখতে হবে। প্রতিকূলতা তো থাকবেই। কিন্তু, হার মানলে হবে না।

Advertisement

পুলিস সুপার এবং জেলাশাসকের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে পড়েন পড়ুয়ারা। এক ছাত্র বলেন, বাবা-মা দিনমজুরের কাজ করেন। নামী সংস্থায় কোচিং নিতে পারব, এটা কোনওদিন ভাবিনি। পুলিস সেই বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। সফল হওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, এটা আমাদের জেলার পড়ুয়াদের কাছে বড় সুযোগ। বাংলার ছেলেমেয়েরা মেধায় কোনও অংশে পিছিয়ে নেই। এই ধরনের প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে আমাদের জেলার ছেলেমেয়েরা প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পৌঁছে যাবে বলে আশা করি। আমাদের সময়ে এত সুযোগ ছিল না। এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব঩ন্দ্যোপাধ্যায় পড়ুয়াদের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। স্কুলে পড়ার জন্য কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রীর মতো প্রকল্প রয়েছে। এখন আবার পুলিসও তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিল। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ডিএফও সঞ্চিতা শর্মাও নিজের অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করেন। সভাধিপতি বলেন, এধরনের প্রকল্প প্রশংসার যোগ্য। পুলিস আধিকারিকরা বলছেন, কোচিংয়ের জন্য পুণে যাওয়ার দরকার হবে না। ঘরের কাছে কোচিং নিয়েই সফলতার মুখ দেখা যাবে। ছেলেমেয়েদের সাফল্যের কথা শুনে টুয়েলফথ ফেল সিনেমার মতোই এই জেলার মায়েদেরও বলতে শোনা যাবে, লড়াই করে তুই আইপিএস হয়েই গেলি রে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ