Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একইপাড়ায় দু’দিনে ২ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, কালী পুজো করবেন বাসিন্দারা

একইপাড়ায় দু’দিনে ২ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, কালী পুজো করবেন বাসিন্দারা
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর:  বহরমপুরে পরপর দু’দিনে একইপাড়ায় দুই যুবক আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। কোনও অশুভ শক্তি ভর করেছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। তাই অশুভ শক্তি নাশে কালীপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাসিন্দারা। আগামী অমাবস্যার রাতে সেই কালীপুজো করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বহরমপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাপাড়ার বাসিন্দারা। হাজরাপাড়ার জাগোলোক সমিতির উদ্যোগে হচ্ছে কালীপুজো। পুজো কমিটির উদ্যোক্তা সন্তোষ হাজরা বলেন, পাড়ায় কোনও অপদেবতা আশ্রয় নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই অশুভ শক্তির বিনাশে আমরা পুজোর আয়োজন করছি। শান্তি ফেরানোই আমাদের উদ্দেশ্য।
Advertisement
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে হাজরাপাড়ায় বন্ধ ঘর থেকে বিশ্বজিৎ হাজরার(৩০) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন বিশ্বজিৎ। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দিন কয়েক আগে অশান্তি করে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীও বাপেরবাড়ি চলে যান। বাড়িতে একাই থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বহরমপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃতের ভাই টোটোন হাজরা বলেন, দ্বিতীয় পক্ষের বউদি অশান্তি করে চলে যাওয়ার পর থেকেই দাদা মানসিক অবসাদে ভুগছিল। তার জেরেই আত্মহত্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বজিতের দেহের ময়নাতদন্তের আগেই ওই পাড়াতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন পাঁচু হাজরা(৪৫)। পেশায় তিনি লটারি টিকিট বিক্রেতা ছিলেন। জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে পাঁচুবাবুর মা রান্নাঘরে রান্না করছিলেন। পাশের ঘরে পাঁচুবাবুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিস দেহ উদ্ধার করে। প্রতিবেশীদের দাবি, মদ ও হেরোইনের নেশায় আশক্ত হয়ে পড়েছিলেন পাঁচুবাবু। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে তিনি আত্মঘাতী হন।
পরপর দু’দিনে দু’জনের মৃত্যুতে হাজরাপাড়ার বাসিন্দারা আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। মহিলাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে পাড়ার ৭৩টি পরিবার মিলে কালীপুজো করার সিদ্ধান্ত নেন। পাড়ার জাগোলোক সমিতির সদস্যরা পুজোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ক্লাবের সদস্য অক্ষয় হাজরা বলেন, কালীপুজো করে আমরা পাড়ায় শান্তি ফেরাতে চাই। যাতে আর কোনও অপমৃত্যুর ঘটনা না ঘটে। প্রতিমা তৈরি করেই পুজো দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ