সংবাদদাতা, মানকর: একই রাস্তা সংস্কারের জন্য তিনবার টেন্ডার হয়েছে অথচ রাস্তার হাল বদলায়নি। রাস্তার কাজে দুর্নীতি হয়েছে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ দেখালেন গলসি-১ ব্লকের লোয়াপুর কৃষ্ণরামপুর এলাকার বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডল বলেন, পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ম মেনেই টেন্ডার করেছে এবং কাজও হয়েছে। তবে পঞ্চায়েত ওই রাস্তা সংস্কার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে বলতে পারব। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোয়াপুর কৃষ্ণরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লোয়াপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সোদপুর পুরনো সেতু পর্যন্ত ৫০০ মিটার দীর্ঘ চলাচলের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। অনেকবার প্রশাসনের কাছে এই রাস্তা সংস্কারের আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনবার রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার হলেও রাস্তার হাল ফেরেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গলসি-১ পঞ্চায়েত সমিতি গত ছয় নভেম্বর ৯২ হাজার ১৬২ টাকা এবং ১১ নভেম্বর ৯২ হাজার ৩৪৮ টাকার টেন্ডার করেছে। এরপর এই বছরের ৮ জানুয়ারি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে রাস্তা মেরামতির জন্য ফের ৫১ হাজার ৮২৯ টাকার টেন্ডার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা তপন রায়গুপ্ত, শেখ শান্তরা বলেন, মাত্র দুই-তিন মাসের ব্যবধানে তিনবার টেন্ডার করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, তিনটি কাজই পেয়েছে একই ঠিকাদারি সংস্থা। আমরা খবর নিয়ে দেখেছি, ওই সংস্থা টাকা পেয়ে গিয়েছে। অথচ রাস্তার হাল ফেরেনি। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা রাজু পাত্র। তিনি বলেন, অফলাইন টেন্ডার করে তিনটি কাজই একজনকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতারা এভাবেই সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। রাস্তার কাজের জন্য টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে ঠিকাদারি সংস্থার পক্ষে সীতারাম গড়াই বলেন, কাজের বরাদ্দকৃত অর্থ এক লক্ষ টাকাওর বেশি ছিল। তাই পঞ্চায়েত সমিতি দু’টি অফলাইন টেন্ডার করেছিল। সেই টাকাতেও রাস্তার সংস্কার সম্পূর্ণ না হওয়ায় পঞ্চায়েত আবার একটি টেন্ডার করে। তিনটি কাজই আমি করেছি। তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে পঞ্চায়েত প্রধান মিরাজ মল্লিক বলেন, পঞ্চায়েত সমিতি কী করেছে, তা জানি না। গ্রাম পঞ্চায়েত ওই রাস্তা সংস্কার করেছে। জিও-ট্যাগ সহ সমস্ত প্রমাণ আছে।



