Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একই পরিবারের তিন সদস্যের দেহ উদ্ধার মাদারিহাটে, রহস্য

একই পরিবারের তিন সদস্যের দেহ উদ্ধার মাদারিহাটে, রহস্য
  • ৪ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ট্যাংরা ও মধ্যমগ্রামের ছায়া এবার আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটেও। সোমবার সকালে মাদারিহাটে একটি সরকারি কোয়ার্টার থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বনদপ্তরের এক মাহুতের কোয়ার্টার থেকে এদিন মা, ছেলে ও নাতির দেহ উদ্ধার করে পুলিস। কোয়ার্টারটি বনদপ্তরের মাদারিহাট ক্যাম্পাসে। 
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম বিবি লোহার ওরাওঁ (৫২), তাঁর ছোট ছেলে রবি ওরাওঁ (৩০) এবং নাতি বিবেক ওরাওঁ (১৩)। কাঠের কোয়ার্টারে তাঁরা থাকতেন। মৃতার বড় ছেলে বিনোদ ওরাওঁ এবং তাঁর স্ত্রী পুষ্পাদেবীও ওই কোয়ার্টারে থাকতেন। কোয়ার্টারে রয়েছে তিনটি রুম। একটি রুমের মেঝেতে পড়েছিল প্রৌঢ়ার দেহটি। অন্য রুমের বিছানায় পড়েছিল বিনোদ ওরাওঁয়ের ছেলে বিবেকের নিথর দেহ। সেই ঘর থেকেই রবির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবির সঙ্গে তাঁর ভাইপো নবম শ্রেণির পড়ুয়া বিবেক ঘুমোত। মা একটি রুমে থাকত। কী কারণে ও কীভাবে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হল তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। ধন্দে পড়েছে মাদারিহাট থানার তদন্তকারী পুলিস অফিসাররাও। তাই ময়নাতদন্তের আগে পুলিস এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে আগাম কিছু বলতে চাইছে না। তবে পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, মা ও ভাইপোকে রবি সম্ভবত শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। তারপর নিজে ঘরের মধ্যে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়। কারণ ওই প্রৌঢ়া ও নাতির মুখে চাপ চাপ রক্ত লেগেছিল। তবে দু’জনের দেহের অন্য কোথাও কোনও ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। 
বিনোদ ওরাওঁ হলং বিটে মাহুতের কাজ করেন। তিনি এদিন ভোর সাড়ে ৪টেয় কাজে চলে যান। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ পুষ্পাদেবী প্রথমে শাশুড়ি এবং পরে দেওর ও ছেলেকে ডাকতে যান। কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরেও দুই ঘর থেকে কোনও সাড়া পাননি তিনি। এরপর পুষ্পাদেবী ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে দেখেন ছেলের নিথর দেহ পড়ে আছে বিছানায়। মুখে রক্ত। আর সেই ঘরেই ঝুলছে দেওরের দেহ। এরপর শাশুড়ির ঘরের দরজা ভেঙেও দেখতে পান মেঝেতে কম্বল জড়ানো অবস্থায় তিনি পড়ে রয়েছেন। তাঁর মুখেও চাপ চাপ রক্ত। 
প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনার সময় পুষ্পাদেবী বা বিনোদবাবু কেন শব্দ পেলেন না। বিনোদবাবু বলেন, চাকরি হচ্ছে না বলে ভাই মানসিক অবসাদে ভুগছিল। সেজন্য বই ও শংসাপত্র পুড়িয়ে দিয়েছিল একদিন। এদিন কী যে হয়ে গেল। পুলিসকে আমিই খবর দিয়েছি। 
পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ময়নাতদন্তের আগে তিনজনের মৃত্যু কীভাবে হল তা এখনই বলা যাবে না। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বনকর্মী মালো ওরাওঁয়ের মৃত্যুর পর পেনশন পেতেন ওই প্রৌঢ়া। পেনশনের ওই টাকা নিয়েই তাঁর দুই ছেলের মধ্যে মাঝে মধ্যেই বচসা হতো।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ