Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একই নামের দু’ রকম বানান লিখে ২টি বাড়ি আদায়ের চেষ্টা

একই নামের দু’ রকম বানান লিখে ২টি বাড়ি আদায়ের চেষ্টা
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রহিম ও রাহিম এই দুই ভাইয়ের নাম আবাস যোজনার তালিকায় রয়েছে। সেইমতো সার্ভে করতে যান সরকারি আধিকারিকরা। গ্রামে আধিকারিকরা যাওয়ার পর রহিম দাবি করেন, তাঁর দাদা রাহিম বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। অথচ সরকারি খাতায় দেখা গিয়েছে রহিমের কোনও ভাই নেই। সামান্য নামের বানানের হেরফের করে আবাস যোজনায় দু’টি বাড়ি নিতে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি। শেষমেশ তাঁর সেই কারচুপি ধরা পড়ল। আবাস যোজনার সার্ভেতে গিয়ে এমনই সব বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন আধিকারিকরা। মানুষের যে কতরকম বিচিত্র ‘অজুহাত’ হতে পারে তা টের পাচ্ছেন তাঁরা।
Advertisement
জানা গিয়েছে, শেষ মুহূর্তের আবাসের সুপার সার্ভে চলছে। এখনই মোট ১ লক্ষ ৪০ হাজার বাড়ি প্রাপকদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। তবে সার্ভেতে বেশ কিছু নাম হোল্ড করা হয়েছে। সেগুলি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সার্ভে করছেন। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক থেকে শুরু করে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটরা গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। সার্ভের কারণে গ্রামে গিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা। যেমন, রামপুরহাট ২ ব্লকের কালুহা পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামে বিদঘুটে সব গল্প শোনা যাচ্ছে প্রশাসনের অন্দরে কান পাতলে। তেমনই রহিম ও রাহিমের ঘটনাটি। বাবা প্রথমে বলেন, ছেলে বাইরে ভাড়া বাড়িতে থাকে। অথচ দোতালা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন ছেলে। জিজ্ঞাসা করতে গেলে তিনি জানান, বাইরে থাকি ক’দিন হল বাড়ি এসেছি। দাদা বাইরে শ্রমিকের কাজ করে। দু’জন আলাদা আলাদা থাকি। এরপর আধার কার্ড ও সরকারি নথি দেখিয়ে আধিকারিকরা বাবাকে বলেন, আপনার তো একটিই সন্তান রয়েছে। দোতালা বাড়িও রয়েছে। তাহলে আপনাদের দু’টি নাম কেন থাকবে? যদিও তাঁরা পরে আধিকারিকদের ধমক খেয়ে নামের বানান বিভ্রাটের কথা স্বীকার করে নেন। এরকমই বিদঘুটে ঘটনা তার পাশের গ্রামেও। সেখানে আধিকারিকরা সার্ভের জন্য গ্রামে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই এক বৃদ্ধ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। মাঝেমধ্যে বলতে থাকেন, আমি গরিব মানুষ, আমার বাড়িটা একবার দেখতে চলুন। কত কষ্ট করে থাকি। এভাবে সার্ভে চলাকালীন আধিকারিকদের সঙ্গে প্রায় ৩ ঘণ্টা ঘোরেন সেই বৃদ্ধ। সবশেষে তাঁর বাড়ি যান আধিকারিকরা। সেই গ্রামেই তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। মেয়ের কাঁচা বাড়িটিকে তিনি দেখিয়ে বলেন, এখানেই কষ্ট করে থাকি। এরপর আধিকারিকরা আরও কিছু তথ্য জোগাড় করতে গিয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য পান। 
কয়েকদিন আগেই গ্রামের একপ্রান্তে বিশালাকার দোতালা পাকা বাড়ি বানিয়েছেন সেই বৃদ্ধ। এরপর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির হন আধিকারিকরা। অবশেষে তিনি স্বীকার করে নেন তাঁর পাকা বাড়ি আছে বলে। এমনই নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে গ্রাম থেকে অফিসে ফিরছেন আধিকারিকরা। ‘অজুহাত’ এর ধরন নিয়ে অফিসের কর্মীদের মধ্যে হাসির রোলও উঠছে। জেলা প্রশাসনের এক অফিসার বলছিলেন, ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সুপার সার্ভে চলবে। প্রচুর নাম অযোগ্যের কারণে বাদ যাচ্ছে। কেউ বলছেন, পাকাবাড়ি থাকার কারণে তার নাম বাদ গেলে গ্রামে সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে বিচার করতে হবে। কেউ গোরু রাখার চালাকে বসবাসের বাড়ি বলে চালাচ্ছেন। কিন্তু কোনও রেয়াত করা হচ্ছে না। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, মুরারই ২, রামপুরহাট ২ ব্লকগুলিতে হোল্ড রয়েছে কিছু নাম। সেগুলি সমীক্ষা চলছে। কিছু নাম পুনরায় যাচাই করার জন্য একটি ৪ আধিকারিকের টিম জেলায় ঘুরে ঘুরে দেখছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ