সংবাদদাতা, করিমপুর: একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন নদীয়া জেলার সীমান্ত এলাকার চাষিরা। গত কয়েক বছর ধরে সাথী চাষে ঝোঁক বাড়ছে করিমপুরের বিভিন্ন এলাকার চাষিদের। কোথাও জমিতে মাচার উপরে পটল গাছ ও নীচে মাটিতে চলছে একাঙ্গির চাষ। আবার কোথাও পটলের মাচায় সিমের চাষ করা হচ্ছে। এলাকার চাষিরা জানান, অল্প জমিতে একটি ফসলের জন্য অপেক্ষার দিন শেষ। এক একটি জমিতে একটিমাত্র ফসল চাষ করতে অনেক বেশি জমির প্রয়োজন। সেই উৎপাদিত ফসলের বাজারদর কম থাকলে চরম ক্ষতি হয় চাষিদের। তাই এখন সাথী চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।
Advertisement
হোগলবেড়িয়ার তারাপুরের চাষি আলাহিম মণ্ডল এক বিঘা জমিতে গতবছর কার্তিক মাসে পটল লাগিয়েছিলেন। মাঘ মাসে পটলের জমিতে মাচা তৈরি করা হয়েছিল। আশ্বিন-কার্তিক মাসে পটল চাষ কমে আসায় ওই মাচাতেই শিমের উৎপাদন শুরু হয়। আলাহিম সাহেব বলেন, একই জমিতে এভাবে চাষ করায় সময় ও খরচ বাঁচছে। আর এক চাষি দিলীপ বিশ্বাস বলেন, সোয়া এক বিঘা জমিতে একইসঙ্গে পটল ও একাঙ্গির চাষ করেছি। জমিতে পটলের মাচার উপরে পটল ফলে আর মাচার নীচে একাঙ্গি হচ্ছে। এবছর ওই জমিতে প্রায় ৫০হাজার টাকার পটল ও ষাট হাজার টাকার একাঙ্গি বিক্রি হয়েছে। এবার পটল, শিম, লঙ্কা বেগুন সহ অন্যান্য আনাজের দাম ভালো পেয়েছেন চাষিরা। গোপালপুরের চাষি প্রশান্ত মণ্ডল, সুকুমার সরকার বলেন, অনেকে কলা চাষের সঙ্গে আলু কিংবা লঙ্কা চাষ করছেন। কলা চারা লাগানোর প্রায় এক বছর পর ফলন হয়। সেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে কেউ তিন মাসের ফসল আলু কিংবা ন’মাসের লঙ্কা চাষ করছেন। তাতে একই সময়ে দু’টি চাষ করার সুবিধা মিলছে। কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে সাথী চাষে নদীয়া জেলা অনেক এগিয়ে। একই জমিতে একসঙ্গে অনেক ফসল ফলিয়ে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকেও তাঁদের উৎসাহিত করা হয়।



