Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একই এপিক নম্বরে বাংলা এবং বিজেপি   শাসিত গুজরাত-হরিয়ানায় ৬১১ ভোটার

একই এপিক নম্বরে বাংলা এবং বিজেপি   শাসিত গুজরাত-হরিয়ানায় ৬১১ ভোটার
  • ১ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের হয়ে আসছে! রাজ্যের ভোটার তালিকায় ‘বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী’ সন্ধানপর্বে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। শুক্রবার সামনে আসা ওই তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর বিধানসভা এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এমন ৬১১ জন ভোটারের খোঁজ মিলেছে, যাঁদের সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের (এপিক) নম্বরেই সমসংখ্যক লোক রয়েছে গুজরাত ও হরিয়ানায়। অর্থাৎ এ রাজ্যের ভোটারের এপিক কার্ডের নম্বর এবং বিজেপি শাসিত ওই দুই রাজ্যের এপিক কার্ডধারীদের নম্বর একই। মূলত ‘এক্সওয়াইজেড’ এবং ‘এলপিজেড’ সিরিজের এপিক কার্ডেই এহেন ‘জালিয়াতি’ হয়েছে। 
Advertisement
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, একই এপিক নম্বরের সবচেয়ে বেশি ৪৮২ জন ভোটার রয়েছেন গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের ৪৮২ জন ভোটারের এপিক কার্ডের যে নম্বর, সেই একই নম্বর গুজরাতের দানিলিমডা, গান্ধীনগর সাউথ, ঘাটলোডিয়া, কালল, নাবোদা, ঠক্করবাপা নগর, গোন্ডল, মানসা ও ভেজালপুর বিধানসভার ৪৮২ জন ভোটারের। রানিগরের এমন ১২৯ জন স্থানীয় ভোটারের খোঁজ মিলেছে, যাঁদের এপিক কার্ডের নম্বরের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে হরিয়ানার বারওয়ালা বিধানসভা কেন্দ্রের সমসংখ্যক নির্বাচকমণ্ডলীর। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার ভিন জেলার মানুষের ‘অনুপ্রবেশ’এর ঘটনা সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসে শাসকদল তৃণমূল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করে একটি ভুতুড়ে রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্র বলে অ্যাখ্যা দেন। একধাপ এগিয়ে বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের বিশেষ অধিবেশন মঞ্চ থেকে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল, গুজরাত এবং ওড়িশার দুটি সমীক্ষক এজেন্সিকে দিয়ে এ রাজ্যের ভোটারদের ‘ডেটা’ সংগ্রহ করে অনলাইনে এ কাজ করানো হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, ভোটার তালিকা আর ভোটার কার্ড নিয়ে জালিয়াতি করাটা তৃণমূলের কাজ, তাদের নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনও। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষে মুখ্যসচিব এদিনও  ভোটার তালিকা ‘খতিয়ে’ দেখার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন। 
একই নম্বরের দুটি এপিক কার্ডের যে তথ্য সামনে এসেছে, তা অনুযায়ী, রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার মহম্মদ সাইদুল ইসলাম, এপিক কার্ড নম্বর XYZ0600841, এই একই নম্বরের এপিক কার্ড রয়েছে হরিয়ানার বারওয়ালা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার সুনীতার। রানিনগরের সাইদুল ইসলাম, এপিক কার্ড নম্বর XYZ0599720, এই একই নম্বরের এপিক রয়েছে বারওয়ালার ভোটার সুরেন্দ্র কুমারের। আবার গঙ্গারামপুর বিধানসভার ভোটার মানিক রায়, এপিক কার্ড নম্বর LPZ2525970, এই একই 
নম্বরের কার্ড গুজরাতের দানিলিমডা কেন্দ্রের নরেশকুমার সোনির। মানিকবাবুর ভাই বিপ্লব রায়ের এপিক কার্ড নম্বর LPZ2268084, এই একই নম্বরের কার্ড রয়েছে গান্ধীনগর সাউথ কেন্দ্রের 
গোমতীবেন ঠক্করের। এপিক কার্ড নম্বরের এহেন ‘জালিয়াতি’ মহারাষ্ট্র বা দিল্লি নির্বাচনের মডেল কি না, তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।          
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ