Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এখনও পর্যন্ত ধান বিক্রির টাকা ঢোকেনি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে

এখনও পর্যন্ত ধান বিক্রির টাকা ঢোকেনি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: সিপসি-তে (ক্রপ প্রকিউরমেন্ট সেন্টার) সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করে টাকা পাননি বহু চাষি। দশ-পনেরো দিন আগে ধান বিক্রি করে এখনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় চাষিদের উদ্বেগ বাড়ছে। চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। রোজই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করে তাঁরা হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। চাষিদের দাবি, কিষাণ মান্ডিতে ধান দিলে ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যায়। এবার সিপিসিতে ধান দিয়ে এখনও টাকা মিলল না। জেলা খাদ্য নিয়ামক আধিকারিক সুদীপ্ত সামন্ত বলেন, দু’এক জায়গায় সমস্যার কারণে দেরি হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে চাষিদের সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের আইএফএসসি কোড না মেলায় অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে। তবে চাষিদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। দেরি হলেও সকলে তাঁদের প্রাপ্য পেয়ে যাবেন।
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার বেশ কিছু দেরিতে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু হয়েছে। তবে নভেম্বর মাসের চতুর্থ সপ্তাহ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে চাষিদের হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। খোলা বাজারে কুইন্টাল প্রতি ধানের দাম ২০৫০-২১০০ টাকা চলছে। সহায়ক মূল্যে সেই ধানের কুইন্টাল প্রতি দাম মিলছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। পাশাপাশি কুইন্টাল প্রতি ২০ টাকা হারে চাষিদের ইনসেন্টিভ দেওয়া হচ্ছে। এবার সিপিসি ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সমবায় ও গ্রুপের মাধ্যমে এবার আরও প্রায় দুশোটি কেন্দ্রে ধান কেনা হচ্ছে। চাষিরা এবার প্রায় দুয়ারে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন।
তবে বেশ কয়েকটি সিপিসিতে ধান দিয়ে চাষিরা কার্যত বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বিশেষ করে বড়ঞা ব্লকের আন্দুলিয়া সেন্টারে যাঁরা ধান বিক্রি করেছেন টাকা পেতে তাঁরা অসুবিধায় পড়েছেন। পারশালিকার তুষারকান্তি ঘোষ বলেন, বারো দিন আগে সঠিক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে ১৫ কুইন্টাল ধান দিয়েছি। কিন্তু এখনও টাকা পেলাম না। ধান বিক্রির টাকা না পাওয়ায় ধার বাকিও পরিশোধ করতে পারছি না। সন্ধ্যারানি ঘোষ, দয়াময় ঘোষ প্রমুখ বলেন, অন্যান্য বছর ধান বিক্রির দু’-তিন দিনের মধ্যে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছিল। এবার কেন দেরি হচ্ছে জানি না। নিমার বাসিন্দা সুনীল ঘোষ বলেন, আন্দুলিয়া সিপিসিতে ধান দেওয়া সুবিধা এবং কম হারে ধলতা বাদ দেওয়ায় ওখানে গিয়েছিলাম। টাকা কবে পাব, তাই নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছি। দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বাহাদুরপুরের রফিক শেখ, রামেশ্বরপুরের দেবাশিস ঘোষ, পছিপাড়ার অজিত পালরা। যত দিন গড়াচ্ছে চাষিদের উদ্বেগের মাত্রা ততই বাড়ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ