Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এখন থেকে বহরমপুরের দু’টি শ্মশানে ডোমদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না

এখন থেকে বহরমপুরের দু’টি শ্মশানে ডোমদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: মৃতদেহ সৎকারে জন্য আগে মৃতের পরিজনকে বাড়তি টাকা দিতে হতো। কিন্তু এখন ডোমদের বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে না। বহরমপুর পুরসভার অধীন দু’টি শ্মশানেই নোটিস টাঙিয়ে একথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মৃতদেহ দাহ করতে কর্মীদের কোনও টাকার দাবি পূরণ করার দরকার নেই। এখন বাড়তি টাকা না দিলেও অনায়াসেই মিলবে চিতাভস্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র। বহরমপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষ ও শ্মশানকর্মীদের এই সিদ্ধান্তে খুশি মৃতের পরিজনরা। শ্মশানকর্মী অন্তু সিনহা বলেন, এখন ডোমদের কোনও টাকা দিতে হচ্ছে না। আমরা গোরাবাজার ও খাগড়া দুই শ্মশানেই নোটিস টাঙিয়ে একথা জানিয়ে দিয়েছি।
Advertisement
এতদিন মৃতদেহ দাহ করতে এসে নির্ধারিত খরচের পরেও মৃতের পরিজনকে ডোমদের নানান আবদার মেটাতে হতো। অনেক সময় এই আবদার জোর জবরদস্তিতেই পরিণত হতো। মৃতের পরিজনকে চিতাভস্ম নিতে ৩০০ থেকে ৫০০ বা তারও বেশি টাকা দিতে হতো। ডোমদের সেই দাবি মেটালে তবেই মৃতের পরিজনদের হাতে চিতাভস্ম তুলে দেওয়া হতো। এমনকী মৃতের শংসাপত্র পেতেও সমস্যায় পড়তে হতো।  এই নিয়ে প্রায় রোজই শ্মশানযাত্রীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক বা বচসায় জড়াতেন পুরসভার অস্থায়ী পদের শ্মশানকর্মীরা। বর্তমানে এই খবর প্রকাশিত হতেই বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বহরমপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে ডোমদের কার্যত কড়া ভাষায় শাসন করে। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দাহ করার জন্য রসিদে উল্লেখিত টাকার বাইরে এক টাকাও লাগবে না। সেটা নোটিসে লেখা রয়েছে। বহরমপুর গোরাবাজারে দাহ করতে এসেছিলেন খড়গ্রামের বিধান মার্জিত। তিনি বলেন, গোরাবাজার শ্মশানে দাহ করতে এসে নতুন অভিজ্ঞতা হল। এতদিন ডোমরা টাকার দাবি করতেন। এই প্রথম দেখলাম কেউ কোনও টাকার দাবি করলেন না। শ্মশানকর্মী বিজয় শিকদার বলেন, আমরা বারবার নিষেধ করি। কিন্তু ডোমরা আমাদের নির্দেশ অমান্য করেই টাকার দাবি করত। এখন নোটিস দেওয়ায় সেটা বন্ধ হয়েছে। এতে খুশি শ্মশানযাত্রীরা।
সম্পর্কিত সংবাদ