নয়াদিল্লি: মোদি জমানায় বিচার ব্যবস্থার উপরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি নিজের স্বার্থরক্ষায় বিচারব্যবস্থায় প্রভাব খাটাচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলগুলির। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে এনিয়ে একটি সম্পাদকীয়ও প্রকাশিত হয়েছিল। এর সূত্র ধরেই বিতর্কের রেশ ভারতের রাজনীতির অন্দরমহল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও চলে আসে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়কে প্রশ্ন করেন বিবিসির সাংবাদিক স্টিফেন সাকুর। জবাবে চন্দ্রচূড় বলেন, ‘ভারত একদলীয় রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন ধারনা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে চুরমার হয়ে গিয়েছে। আপনি যদি ভারতের রাজ্যগুলির দিকে তাকান, দেখা যাবে বহু জায়গাতেই আঞ্চলিক আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বাতন্ত্র্য প্রাধান্য পেয়েছে। দেশের বহু রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে আঞ্চলিক দলগুলি। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করছে।
Advertisement
মানহানি মামলায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে গুজরাত হাইকোর্ট। পরে সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাকুর বলেন, ‘ভারতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে।’ জবাবে চন্দ্রচূড় বলেন, ‘আপনি দেখবেন, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত হয়ে গিয়েছে। যার অর্থ, ওই নেতার সংসদে নিজের কাজ করার ক্ষেত্রে আর বাধা নেই।’ এর পরেই জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা উল্লেখ করে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘উচ্চ আদালত, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ব্যক্তিগত মতামতের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষায় সচেষ্ট। সেই কারণেই আমাদের উপর দেশবাসীর আস্থা রয়েছে।’
রাম মন্দির মামলার রায়ের আগে চন্দ্রচূড় দেবতার সামনে বসেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে সেকথা সামনে আসতে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। বিচারপতি তো সংবিধানের ভিত্তিতে রায় দেবেন। তাহলে প্রধান বিচারপতি মামলার সমাধানের জন্য দেবতার কাছে প্রার্থনা করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। সেই ঘটনা নিয়ে সাকুরের প্রশ্নের জবাবে চন্দ্রচূড়ের যুক্তি, ‘আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন ও একজন বিচারপতির বক্তব্য অনুধাবনের চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি ভুল উত্তর পাবেন। আমি যে একজন ঈশ্বর-বিশ্বাসী মানুষ, তা নিয়ে কোনও লুকোছাপা নেই। আমাদের সংবিধান কাউকে স্বাধীন বিচারক হওয়ার জন্য নাস্তিক হতে বলে না। ’
ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় প্রধান বিচারপতির থাকাকালীন গণেশ চতুর্থীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। যা ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন একাধিক বিরোধী নেতা। সেই প্রসঙ্গে চন্দ্রচূড় জানান, সাংবিধানিক পদের সৌজন্য নিয়ে বেশি কিছু ধারণা করা উচিত নয়। এর সঙ্গে মামলার রায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে আসার আগে নির্বাচনী বন্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
রাম মন্দির মামলার রায়ের আগে চন্দ্রচূড় দেবতার সামনে বসেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে সেকথা সামনে আসতে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। বিচারপতি তো সংবিধানের ভিত্তিতে রায় দেবেন। তাহলে প্রধান বিচারপতি মামলার সমাধানের জন্য দেবতার কাছে প্রার্থনা করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। সেই ঘটনা নিয়ে সাকুরের প্রশ্নের জবাবে চন্দ্রচূড়ের যুক্তি, ‘আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন ও একজন বিচারপতির বক্তব্য অনুধাবনের চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি ভুল উত্তর পাবেন। আমি যে একজন ঈশ্বর-বিশ্বাসী মানুষ, তা নিয়ে কোনও লুকোছাপা নেই। আমাদের সংবিধান কাউকে স্বাধীন বিচারক হওয়ার জন্য নাস্তিক হতে বলে না। ’
ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় প্রধান বিচারপতির থাকাকালীন গণেশ চতুর্থীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। যা ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন একাধিক বিরোধী নেতা। সেই প্রসঙ্গে চন্দ্রচূড় জানান, সাংবিধানিক পদের সৌজন্য নিয়ে বেশি কিছু ধারণা করা উচিত নয়। এর সঙ্গে মামলার রায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে আসার আগে নির্বাচনী বন্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।



