Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একদা জমিদার, আজ দিনমজুর, ত্রিপলের ঘরে বাস , দৈত্যাকার ভগ্নদশার বাড়িটাই অভিশাপ! আবাসে বাড়ি না পেয়ে খেদ রায় পরিবারের  

একদা জমিদার, আজ দিনমজুর, ত্রিপলের ঘরে বাস , দৈত্যাকার ভগ্নদশার বাড়িটাই অভিশাপ! আবাসে বাড়ি না পেয়ে খেদ রায় পরিবারের  
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুমন তেওয়ারি, কল্ল্যা (সালানপুর): সালানপুর ব্লকের কল্ল্যা সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনেই দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার জমিদার বাড়ি। রায় পরিবার ছিল এলাকার জমিদার। সেসময় তাদের জমিতেই হাসপাতাল, স্কুল, মন্দির গড়ে উঠেছিল। তাদের আভিজাত্যের চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই অট্টালিকা। কিন্তু জমিদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের বড় অংশেরই সঙ্গিন অবস্থা। তাদের কিছু সদস্য দিনমজুরের কাজ করছেন। নুন আনতে পান্তা ফুরনো পরিবারগুলি কুঁড়ে ঘর বানিয়ে ত্রিপল টাঙিয়ে দিন গুজরান করছে। জমিদার বাড়ি তাঁদের কাছে আর ঐতিহ্য নয়, অভিশাপ। তাঁদের আক্ষেপ, এই বাড়ি থাকার জন্যই আবাস প্রকল্পে নাম উঠছে না। একদা সম্ভ্রান্ত পরিবারের এই দশা নজরে আছে প্রশাসনেরও। কিন্তু পাকা বাড়ি থাকায় কোনওভাবেই সরকারি প্রকল্প দেওয়ার ক্ষমতা নেই জনপ্রতিনিধি থেকে আধিকারিকদের। 
Advertisement
সালানপুর ব্লকের ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা গ্রাম কল্ল্যা। এই গ্রামটিকে অনেকে জমিদার গ্রাম হিসেবেও চেনেন। এখানেই রয়েছে কল্ল্যার রায়দের জমিদার বাড়ি। একসময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক ছিল তারা। পুকুর, মাঠের পাশাপাশি লক্ষ্মীজনার্দন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিশাল অট্টালিয়ায় নানা কারুকার্য করা ছিল। সেই জমিদার বাড়িতেই থাকত পরিবার। বাড়িতে পরিচারক-কর্মচারীর সংখ্যা হাতে গোনা যেত না। এখন সব গরিমা গিয়েছে, শুধু থেকে গিয়েছে ভগ্নপ্রায় সেই জমিদার বাড়িটাই। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির জানালা দিয়ে কেউটে সাপ ঢুকছে। রাস্তার অন্য পাশে ঝুপড়ি থেকে বেরিয়ে মানুষজনের তা দেখে উদ্বেগের অন্ত নেই। এই ভগ্নপ্রায় অট্টালিকার ‘মালিক’ তাঁরা। যে কোন দিন বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে। তাই বাড়ি ছেড়ে ত্রিপল টাঙিয়ে কুঁড়েঘর করে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙা বাড়িতেই বাড়ির জিনিসপত্র রাখেন। 
জমিদার পরিবারের বর্তমান বধূ ভাগ্যবতি রায় বলেন, আমাদের আগের প্রজন্ম কিছুই রেখে যায়নি। শুধু এই ভূতুড়ে বিশাল বাড়িটাই রেখে গিয়েছে। যা আমাদের উপহাস করে। পরিবারের সদস্য সপ্তম রায় বলেন, একটি দোকানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। এই বাড়িটি সংস্কার করার সাধ্য আমার নেই। এই বাড়ির জন্যই আবাস প্রকল্পেও নাম উঠছে না। পরিবারের গৌরবের কথা আর বলতে চা‌ই না। সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র বলেন, রায় পরিবার ভেঙে গিয়েছে। বেশিরভাগ পরিবারই অত্যন্ত দুঃস্থ। আমরাও চাই তারা আবাসের বাড়ি পাক। কিন্তু পাকা বাড়ি থাকলে কোনওভাবেই এই প্রকল্পে নাম থাকা সম্ভব নয়। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু কল্ল্যার রায় পরিবারই নয়, জেলার এমন একাধিক পরিবার রয়েছে যাদের বাড়ি পাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু পুরনো আমলের ভগ্নপ্রায় বাড়িই তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ