Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক যুগ পরেও চালু হল না তারাপীঠে রেলের মাল্টি কমপ্লেক্স, ক্ষোভ

এক যুগ পরেও চালু হল না তারাপীঠে রেলের মাল্টি কমপ্লেক্স, ক্ষোভ
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: একযুগ আগে পরিকাঠামো গড়া হলেও আজও চালু হল না তারাপীঠ রোড স্টেশনের বাইরে মাল্টি ফাংশনাল কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে থাকায় দোকানের শাটারে জং ধরেছে। খসে পড়ছে পলেস্তরা। বেড়েছে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য। কমপ্লেক্স চত্বর নেশার আখড়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। যার জেরে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে সরব হচ্ছেন বাসিন্দারা। 
Advertisement
২০০৯-১০ আর্থিক বছরে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০টি স্টেশন এলকায় মাল্টি ফাংশনাল কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল বেকারদের কর্মসংস্থান। জায়গার পরিমাপ অনুযায়ী সেখানে শপিংমল, রেস্তঁরা, হোটেল, বইয়ের স্টল, ওষুধের দোকান, এটিএম কাউন্টার, গাড়ি পার্কিং-এর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় স্থান পেয়েছিল রামপুরহাট ও তারাপীঠ রোডস্টেশন। দু’টি জায়গাতেই কয়েকটি দোকান ঘর নির্মাণ করে দায় সারে রেল। পরে রেলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য তথা সাংসদ শতাব্দী রায় ওই দু’টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরগুলি পড়ে থেকে নষ্ট হতে বসেছিল। সেই সঙ্গে সন্ধ্যা নামলেই সমাজবিরোধীদের আনাগোনা শুরু হয়েছিল। মাঝে রামপুরহাটে ওই কমপ্লেক্সে রেস্তঁরা, স্টেশনারি দোকান খুললেও পরে তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সেখানে রেস্তঁরা, চা ও স্টেশনারি দোকান চালু হয়েছে। কিন্তু তারাপীঠ রোড স্টেশন কমপ্লেক্স চালুই হয়নি। এই ক’বছরে ব্যবহার না হওয়ায় ঘরগুলির কিছু কিছু অংশ ভেঙে পড়ছে। নজরদারির অভাবে জানলার কাচ খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। আবর্জনায় ভরে গিয়েছে কমপ্লেক্সের আশপাশ। 
২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারে ফের ক্ষমতায় আসলে প্রকল্প দু’টি পুরোদমে চালু করার ব্যাপারে রেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথাও বলেছিলেন বিজেপি নোতারা। তারপরও কেটে গিয়েছে কয়েকটা বছর। ক্ষমতায় বিজেপি সরকার। কিন্তু আজও চালু হয়নি তারাপীঠ রোড স্টেশনের কমপ্লেক্স।
যদিও বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, বেকারদের স্বার্থে দ্রুত ওই কমপ্লেক্স চালু করা উচিত। সাংসদ শতাব্দী রায় অবশ্য রেলের গাফিলতিকেই দায়ি করেছেন। তিনি বলেন, সেই সময় অনেক চেষ্টা করে কমপ্লেক্স দু’টি করা হয়েছিল। পরে যাঁরা রেলদপ্তর সামলাচ্ছেন, তাঁরা ওই পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ দেখাননি। সদর্থক পদক্ষেপের অভাবেই রেল যে টাকা খরচ করেছে তা কাজে লাগছে না। 
তবে গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য ঠেকাতে অবিলম্বে দোকানঘরগুলি চালু করা হোক। এতে উপকৃত হবেন এলাকার বেকাররা। পরিকাঠামোর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন তা চালু করা হল না, তা নিয়ে রেলকর্তারা কিছুই বলতে পারেননি। 
সম্পর্কিত সংবাদ