নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সেইসব দিনের কথা ভুলতে চান ধীরেন মাহাত, রেবতী মাহাতরা। গামছায় মুখ ঢাকা বন্দুকধারীদের চোখরাঙানি, তাদের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত করা। বড় কোনও নেতা গ্রামে এলে সাধারণ মানুষের বন্দি জীবন যাপন। সেসব আর নেই। এখন শান্ত জামবনি ব্লকের বুড়িশোল জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামাঞ্চল। বাসিন্দাদের জীবন বদলে গিয়েছে। গ্ৰামে পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ, পানীয় জল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধুর মতো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মিলছে। কিছুদিন আগেই মাওবাদী নেতা কিষেনজির মৃত্যু দিবস চলে গেল। কিন্তু তা নিয়ে মানুষের তাপ উত্তাপ নেই। জেলা পুলিস অবশ্য সমস্তরকম সতর্কতা নিয়েছে।
Advertisement
২০১১ সালে ২৪ নভেম্বর বুড়িশোলের ঘন জঙ্গলে যৌথবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মাও নেতা কিষেনজির মৃত্যু হয়েছিল। সেসব দিনের কথা আর স্মরণে আনতে চান না স্থানীয়রা। তাঁরা এক দশক আগের রাজনৈতিক খুন ও হিংসার কথা ভুলতে চান। আতঙ্ক ছিল তাঁদের নিত্যসঙ্গী। সন্ধে হলেই জঙ্গল পেরিয়ে গ্ৰামে ঢুকত বন পার্টির সদস্যরা। গামছায় মুখ ঢাকা বন্দুকধারীদের নির্দেশ মেনে চলতে হতো। ব্যবস্থা করে দিতে হতো দু’ বেলার খাবারের। বন পার্টির বড় কোনও নেতা এলে গ্ৰামের বাইরে সহজে যাওয়া যেত না। সরাকাটা গ্ৰামের বাসিন্দা ধীরেন মাহাত বলেন, এখনও সেই দিনের কথা ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়। ঘটনার সময়ে ঘরের ভিতরে ছিলাম। জঙ্গল থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসছিল। পরের দিন পুরো বিষয়টি জানতে পারি। সেই সময় বন পার্টির সদস্যরা গ্ৰামে নিয়মিত আসত। আমরা ওদের এড়িয়ে চলতাম। আতঙ্কের মধ্যে থাকতাম। এখন গ্ৰামে শান্তি ফিরে এসেছে। রাস্তা হয়েছে। পানীয় জল, বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা হয়েছে। সেইসব দিনের কথা আমরা ভুলতে চাই। গ্ৰামের এক বাসিন্দা বলেন, ঘটনার আগের দিন রাতে জানতে পেরেছিলাম বন পার্টির বড় কোনও নেতা এলাকায় এসেছে। মাঝে মধ্যেই ওদের দলের নেতারা গ্ৰামে আসত। সকাল হলে চলে যেত। গ্ৰাম লাগোয়া জঙ্গলে ওরা থাকত। গ্ৰাম থেকে খাবার পাঠাতে হত। আবার সকাল হলে চলে যেতে। ভয় হতো, কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। এখন সেই অবস্থা বদলে গিয়েছে। এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে। গৃহবধূ রেবতী মাহাত বলেন, দিদি আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আছে। গ্ৰামের মেয়েরা ছোটখাটো হাতের কাজ করছে। গ্ৰামে অশান্তি হোক চাই না। খুনোখুনি মারামারি হলে ঘরের ভিতর আবার বন্দি জীবন কাটাতে হবে। জামবনি পঞ্চায়েতে সমিতির সভাপতি মধুসূদন মুর্মু বলেন, এলাকায় ধারাবাহিক উন্নয়নের কাজ চলছে। রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক পরিষেবা মানুষ পাচ্ছেন। সন্ত্রাসের রাজনীতির অবসান হয়েছে। ঝাড়গ্ৰাম জেলার এসপি অরিজিৎ সিনহা বলেন, জেলার সীমানায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাকা চেকিং চলছে। জঙ্গল এলাকাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।



