Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক সপ্তাহে সাইবার প্রতারণার জালে ৭ জন, গায়েব ১৫ লক্ষ

এক সপ্তাহে সাইবার প্রতারণার জালে ৭ জন, গায়েব ১৫ লক্ষ
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কখনও ব্যাঙ্কের কর্মী পরিচয় দিয়ে, কখনও আবার কম দামে মূল্যবান সামগ্রী পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন পুরুলিয়া জেলার বাসিন্দারা। যত দিন এগচ্ছে, ততই বেড়ে চলেছে সাইবার অপরাধের সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে অন্তত সাতটি সাইবার প্রতারণার এফআইআর দায়ের হয়েছে পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম বিভাগে। প্রতারণার অঙ্ক সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ছোটখাটো প্রতারণার ঘটনায় দৈনিক অন্তত ১০টি করে জেনারেল ডায়েরি জমা পড়ছে। বাসিন্দারা যাতে প্রতারকদের খপ্পরে না পড়েন, তারজন্য লাগাতার সচেতনতা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পুলিস। তবুও অপরাধের কৌশল বদলে প্রতারকরা নিজেদের কারবারে স্বমহিমায় বহাল।
Advertisement
গত ২ নভেম্বর পুরুলিয়া সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রঘুনাথপুর পুরসভার এক কাউন্সিলার। প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় দু’লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে তাঁর। ওই কাউন্সিলারের স্বামীর সঙ্গে একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট ছিল। যদিও স্বামীর মৃত্যুর পর সেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছিলেন ব্যাঙ্কে। আবেদনের কিছুদিন পরেই তাঁর কাছে ফোন আসে। ওই ব্যাক্তি নিজেকে ব্যাঙ্কের কর্মী বলে পরিচয় দেয়। তারপর ওটিপি হাতিয়ে নিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে দু’লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়।
গত ৪ নভেম্বর এক ব্যবসায়ীর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, কল্যাণী এএইএমএস-এর ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। দেশের সমস্ত আয়ূষ হাসপাতলে চন্দন তেল, ভীমসেনী কর্পূর সহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের অর্ডার পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়। সেই টোপ গিলে প্রায় ৬২ হাজার টাকা ওই ব্যাক্তিকে দেন তিনি। তারপর থেকেই সেই ফোন বন্ধ। ওইদিনই আরও একটি অভিযোগ জমা পড়ে। এক হোমিওপ্যাথি চিকিত্সক অভিযোগ দায়ের করেন। ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি আপডেট করে দেওয়ার নাম করে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দু’লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সাইবার প্রতারকরা।  
গত পরশু, ৫ নভেম্বর মোট চারটি এফআইআর দায়ের হয়। একটি সংস্থায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ৬২ হাজার টাকা মুনাফা মিলবে—এই লোভে পড়ে আড়ষা থানার এক যুবক এক লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা খুইয়েছেন। আড়ষা থানার আরও এক যুবক স্টেট ব্যাঙ্কের ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’-এর শাখা খোলার জন্য একটি ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য জমা করেছিলেন তিনি। তারপরই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা খোয়ান তিনি। 
ওইদিনই বান্দোয়ানের এক ব্যবসায়ী সাইবার থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের অধিকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে তাঁকে এক ব্যক্তি ফোন করেন। কম টাকায় স্টিলের রড পাইয়ে দেওয়া হবে বলে টোপ দেওয়া হয়। সেই টোপ গিলে ধাপে ধাপে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন তিনি। একইভাবে প্রতারকদের ফাঁদে পরে কেওয়াইসি আপডেটের নাম করে  প্রায় দু’লক্ষ টাকা খোয়ান নিতুড়িয়ার এক গৃহবধূ। 
এধরনের প্রতারকদের থেকে সাবধান করেছেন সাইবার থানার পুলিস। আধিকারিকদের কথায়, ব্যাঙ্কের তথ্য থেকে শুরু করে ওটিপি যেন কোনও অপরিচিতের সঙ্গে শেয়ার না করেন। অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে কেউ টোপ দিয়ে টাকা পাঠাতে বললে তা যেন কেউ না পাঠান।
সম্পর্কিত সংবাদ