Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক স্কুলে এক ছাত্রী! সংখ্যা বাড়াতে গ্রামে পোস্টার সাঁটাচ্ছেন প্রধানশিক্ষক

এক স্কুলে এক ছাত্রী! সংখ্যা বাড়াতে গ্রামে পোস্টার সাঁটাচ্ছেন প্রধানশিক্ষক
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: জুনিয়র গার্লস স্কুলে মাত্র একজন ছাত্রী। তার জন্যই প্রতিদিন স্কুল খোলে। ক্লাসও হয়। নির্ধারিত সময়ে স্কুলের ঘণ্টা বাজে, প্রার্থনাও হয়। ওই পড়ুয়ার জন্যই মিড ডে মিলের ‘বিশেষ’ ব্যবস্থাও রয়েছে। পড়ুয়া খুঁজতে হাটেবাজারে, বিভিন্ন গ্রামে পোস্টার সাঁটানো থেকে লিফলেট বিলি করছেন কাটোয়ার সিঙ্গি কাশীরাম দাস জুনিয়র গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিথি শিক্ষক। গ্রামের বাসিন্দারাও চান, স্কুলটি থাকুক। পড়ুয়া বাড়াতে গ্রামে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাটোয়া পূর্ব চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত মণ্ডল বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে ওই স্কুলে যাতে পড়ুয়া বাড়ে তারজন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। 
Advertisement
২০১০সালে কাটোয়া-২ ব্লকের সিঙ্গি বাসস্ট্যান্ডের পাঠাগারের পিছনে প্রায় সাত বিঘা জায়গাজুড়ে দ্বিতল স্কুলটি গড়ে ওঠে। দোতলায় তিনটি ও নীচে দু’টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। প্রথমদিকে দেড়শোর বেশি ছাত্রী পড়ত। মামলার কারণে মাঝে চার বছর স্কুলটি বন্ধ ছিল। বর্তমানে ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র একজন। আরাধ্যা সর্দার নামে পঞ্চম শ্রেণির ওই পড়ুয়ার জন্যই প্রতিদিন স্কুল খোলা হয়। ঘণ্টা পড়লে বারান্দায় প্রার্থনা সেরে সে ক্লাসে চলে যায়। ফাঁকা শ্রেণিকক্ষে ক্লাস হয়। মিড ডে মিল হিসেবে টিফিনের সময় কেক-বিস্কুট দেওয়া হয়। 
পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর জন্য ওই অতিথি শিক্ষক রয়েছেন। একজন গ্রুপ-ডি কর্মীও রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিথি শিক্ষক নাজিবুল হক মল্লিক বলেন, স্কুল শুরুর দিকে দেড়শোর উপর পড়ুয়া ছিল। তবে ২০১২সাল থেকে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে থাকে। ২০২০সালে মামলা চলার কারণে স্কুল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর ২৯ফেব্রুয়ারি আবার চালু হয়। কিন্তু পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র একজন। তবে আমরা পড়ুয়া টানতে সিঙ্গি গ্রামের হাটে, মুলটি, গৌরডাঙা, ওকড়সা গ্রামে ফ্লেক্স টাঙিয়েছি। লিফলেট বিলিও করা হয়েছে। আগামী বছর ২জানুয়ারি ভর্তি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। স্কুলে পড়ুয়া টানতে গ্রামে আগামী রবিবার গ্রামে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে গ্রামের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হবে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা দীনবন্ধু বাস। তিনি বলেন, যে করেই হোক স্কুল বাঁচাতে হবে। কারণ গ্রামে কোনও হাইস্কুল নেই। আড়াই কিলোমিটার দূরে ওকড়সা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। সবাই সেখানেই পড়তে যায়। অথচ গ্রামের স্কুলে পড়ুয়া পাওয়া যাচ্ছে না। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আরাধ্যা সর্দার বলে, স্কুলে একা একা আসতে ভালো লাগে না। বন্ধুও নেই। তার মা রূপা সর্দার বলেন, গ্রামেই স্কুল থাকায় মেয়েকে ভর্তি করেছিলাম। এখন স্কুলে আমার মেয়ে একাই পড়ছে। আশা, আগামী দিনে আরও পড়ুয়া বাড়বে। কাটোয়া-২ বিডিও আসিফ আনসারি বলেন, ওই স্কুলের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ