নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মঙ্গলবার এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী রইল দাসপুর থানার সুন্দরপুর গ্রামের রাজাপাড়া। সেখানকার এক বাড়িতে সকালবেলাতেই হাজির দুই স্কুলের দুই শিক্ষক। একজন দাসপুর-১ ব্লকের টালিভাটা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা মোনালিসা খাতুন, ও অপরজন খাটবাড়ই প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস বসু। ওই এলাকার একমাত্র শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই ওই বাড়ির খুদে পড়ুয়াকে অন্য কোনও স্কুলে ভর্তি করতেই হবে। দুই শিক্ষকই চান, খুদেটি তাঁর স্কুলে ভর্তি হোক। শিশুটিকে নিয়ে কার্যত টানাটানি শুরু করে দেন দুজনে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, শিশুর বাড়ি তাঁর স্কুলের কাছে। অপর দিকে, শিক্ষিকার দাবি, তাঁদের স্কুলে যত্ন সহকারে পড়ানো হচ্ছে। তাই ওই স্কুলই শিশুটির উপযুক্ত।
Advertisement
এটি মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েকদিন ধরে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এমনই ছবি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শহরের অনেক প্রাইমারি স্কুলেই পড়ুয়ার সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। চতুর্থ শ্রেণি পাশ করার পর পড়ুয়ারা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। নতুন পড়ুয়াও ভর্তি হচ্ছে না। তাই বছরের শেষে অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান বাতিল করে পড়ুয়ার খোঁজে বাড়ি বাড়ি হাজির হচ্ছেন।
ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর দিকেই ঝুঁকছেন অভিভাবকরা। তাতে দু’ পয়সা অতিরিক্ত ব্যয় হলেও পরোয়া নেহি। এই বাজার ধরতে রাজ্যের প্রায় সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও প্লে স্কুল। আর তার চাপেই নাভিশ্বাস সরকারি স্কুলের। অগত্যা পড়ুয়া আনতে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। না হলে স্কুলটাই তো উঠে যাবে। স্কুল না বাঁচলে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও অন্যত্র বদলি নিশ্চিত। তাই শুধু স্কুলই নয়, নিজের চাকরিও সুরক্ষিত রাখতে বাড়ি বাড়ি দৌড়চ্ছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা।
তমলুক শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পদুমবসান রত্নেশ্বর রমাপ্রসাদ প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভদীপ সাহা বলেন, বেসরকারি স্কুলের প্রতি অভিভাবকদের ঝোঁক ক্রমশ বাড়ছে। এই সত্য অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। বাংলা মাধ্যম স্কুলের কাছে এটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের স্কুলে ৬৫ জন পড়ুয়া। তবুও আমরা স্কুলে আরও ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য বাড়ি বাড়ি হাজির যাচ্ছি। তমলুক শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পদুমবসান ক্ষুদিরাম প্রাইমারি স্কুলও পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে। দশজনও পড়ুয়া নেই সেখানে। স্কুল বাঁচাতে প্রধান শিক্ষিকা সুজাতা অধিকারী সহ অন্যরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। আফশোসের সঙ্গে সুজাতাদেবী জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়েও লাভ হচ্ছে না। কোনও অভিভাবক বাংলা মাধ্যমে পড়াতে রাজি নন। একই অবস্থা শহরের আবাসবাড়ি প্রমথ প্রাইমারি স্কুলেও। পড়ুয়া সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় স্কুল বাঁচাতে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন প্রধান শিক্ষক প্রতুল চক্রবর্তী। প্রতুলবাবু জানান, বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়ুয়া আসছে না। তমলুকের দক্ষিণচড়া শঙ্করআড়া হরিজন প্রাইমারি স্কুলেও পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে। নতুন সেশন শুরুর আগে পড়ুয়া খোঁজে এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন টিআইসি শঙ্কর ঘটক।
ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর দিকেই ঝুঁকছেন অভিভাবকরা। তাতে দু’ পয়সা অতিরিক্ত ব্যয় হলেও পরোয়া নেহি। এই বাজার ধরতে রাজ্যের প্রায় সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও প্লে স্কুল। আর তার চাপেই নাভিশ্বাস সরকারি স্কুলের। অগত্যা পড়ুয়া আনতে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। না হলে স্কুলটাই তো উঠে যাবে। স্কুল না বাঁচলে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও অন্যত্র বদলি নিশ্চিত। তাই শুধু স্কুলই নয়, নিজের চাকরিও সুরক্ষিত রাখতে বাড়ি বাড়ি দৌড়চ্ছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা।
তমলুক শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পদুমবসান রত্নেশ্বর রমাপ্রসাদ প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভদীপ সাহা বলেন, বেসরকারি স্কুলের প্রতি অভিভাবকদের ঝোঁক ক্রমশ বাড়ছে। এই সত্য অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। বাংলা মাধ্যম স্কুলের কাছে এটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের স্কুলে ৬৫ জন পড়ুয়া। তবুও আমরা স্কুলে আরও ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য বাড়ি বাড়ি হাজির যাচ্ছি। তমলুক শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পদুমবসান ক্ষুদিরাম প্রাইমারি স্কুলও পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে। দশজনও পড়ুয়া নেই সেখানে। স্কুল বাঁচাতে প্রধান শিক্ষিকা সুজাতা অধিকারী সহ অন্যরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। আফশোসের সঙ্গে সুজাতাদেবী জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়েও লাভ হচ্ছে না। কোনও অভিভাবক বাংলা মাধ্যমে পড়াতে রাজি নন। একই অবস্থা শহরের আবাসবাড়ি প্রমথ প্রাইমারি স্কুলেও। পড়ুয়া সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় স্কুল বাঁচাতে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন প্রধান শিক্ষক প্রতুল চক্রবর্তী। প্রতুলবাবু জানান, বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়ুয়া আসছে না। তমলুকের দক্ষিণচড়া শঙ্করআড়া হরিজন প্রাইমারি স্কুলেও পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে। নতুন সেশন শুরুর আগে পড়ুয়া খোঁজে এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন টিআইসি শঙ্কর ঘটক।



