ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আবার চাপ বৃদ্ধির কৌশল নিল মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এক-দেড় মাসের মধ্যেই হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে জানালেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম। এমনকী ভারত যদি হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তাহলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মামলার শুনানি চলবে বলেও জানিয়েছেন তাজুল। শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে বিশেষ মামলাগুলির তদন্ত রিপোর্ট চলতি মাসের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। রিপোর্ট হাতে পেলেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।’
Advertisement
হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাজুল জানান, দুটি প্রক্রিয়ায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড কর্নার নোটিস জারি করে হাসিনাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তা ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো হবে। তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনও অভিযুক্তকে ভারত ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। বাংলাদেশ ভারতের কাছে এই নিয়ে অনুরোধ করেছে। কিন্তু ভারত কোনও জবাব দেয়নি। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে হাসিনাকে ফেরত দেবে। হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এবার হাসিনার আমলের ভূমিমন্ত্রী সৈফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ বিপুল সম্পত্তি কেনার অভিযোগ উঠল। দুবাই, লন্ডনের অভিজাত এলাকায় তিনি একের পর এক বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন। ২০২৩ সালে সৈফুজ্জামান জানিয়েছিলেন, তাঁর মোট সম্পত্তির মূল্য ২৩ লক্ষ মার্কিন ডলার। অথচ তিনি ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নামে-বেনামে ৪৮২টি বাড়ি কিনেছেন। এর মধ্যে ৩১৫টি সম্পত্তিই ব্রিটেনে। এছাড়া দুবাইয়ে ১৪২টি ও আমেরিকাতেও একাধিক বাড়ি কিনেছেন বলে অভিযোগ। ওই প্রাক্তন মন্ত্রীর বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ২৯ কোটি ডলারেরও বেশি বলে জানা গিয়েছে।



