সংবাদদাতা, বর্ধমান: ১ কোটি ২৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের বহিষ্কৃত ম্যানেজারকে বর্ধমান শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ওড়িশার ইকনমিক অফেন্স উইং। ধৃতের নাম বিনয় সোনকার। বর্ধমান শহরের লস্করদিঘির দক্ষিণপাড়ায় তার বাড়ি। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে এরাজ্যের হুগলির সার্কেল অফিসের অধীন রিষড়ার মোড়পুকুর শাখার ম্যানেজার থাকাকালীন ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তাকে ২০২২ সালে রিষড়া থানার পুলিস গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়। তাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সারবত্তা মেলায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ধৃতকে এদিনই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ইকনমিক অফেন্স উইং এর তদন্তকারী অফিসার পাঁচদিনের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানান। তিনদিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিজেএম চন্দা হাসমত।
Advertisement
তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ৪ জুন পর্যন্ত ওড়িশায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের বালাসোর সার্কেল অফিসের জেনারেল সার্ভিসেস বিভাগ ও মাইক্রো এবং স্মল এন্টারপ্রাইজের ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড ট্রাস্টের দেখভালের দায়িত্বে ছিল অভিযুক্ত। সেই সময় সে সার্কেল অফিসের ম্যানেজার ছিল। ট্রাস্টের ফান্ড থেকে ১ কোটি ২৩ লক্ষ ১২ হাজার ৩৬ টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এনিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। বিভাগীয় তদন্তে জানা যায়, বালাসোর ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার নির্দেশ দেয় সে। কিন্তু, চিঠিতে টাকা ট্রান্সফার করার কারণ উল্লেখ করেনি অভিযুক্ত। মূলত, ফান্ড এবং টিএ বিল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো হয়। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে রিষড়া পুকুরমোড় ব্রাঞ্চের ম্যানেজার পদে থাকাকালীন একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। রিষড়া থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়। বিভাগীয় তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার বিষয়ে ব্যাঙ্কের বালাসোর সার্কেলের চিফ ম্যানেজার মৃণালকান্তি মহান্তি এ বছরের ১৬ নভেম্বর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে ভূবনেশ্বরের ইকনমিক অফেন্স উইং। ধৃতের বিরুদ্ধে জাল নথিপত্র তৈরি করে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মতো সরকারি অর্থ আত্মসাতের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।



