নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা প্রতারণা মামলায় বিজেপি নেতা নবারুণ নায়েকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল পুলিস। গত ২৬ নভেম্বর থেকে নবারুণ নায়েক ও তার স্ত্রী তনুশ্রী রায়কে তমলুক থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়াও ওই ঘটনায় সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে আরও একজন জেলে রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার ৮৮ দিনের মাথায় ২১ ফেব্রুয়ারি ধৃতদের বিরুদ্ধে ফাইনাল চার্জশিট পেশ করেছে পুলিস। ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার পার্থপ্রতিম নস্কর অসুস্থ থাকায় সাব ইন্সপেক্টর অরুণ নস্কর তমলুক সিজেএম কোর্টে চার্জশিট জমা করেছেন। ওই মামলায় এখনও দু’জন অভিযুক্ত ধরা পড়েনি। চার্জশিটে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে। মোট সাতজনকে ওই মামলার সাক্ষী করেছে পুলিস। দ্রুত ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। তিন মাস জেলবন্দি সস্ত্রীক ওই বিজেপি নেতা জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক দফায় শুনানি হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ জামিনের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে আরও এক দফায় শুনানি হবে। তবে গ্রেপ্তারের ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ হওয়ায় বেশ চাপে পড়েছে ওই বিজেপি নেতা।
Advertisement
গত বছর ১০ অক্টোবর নবারুণ নায়েক, তার স্ত্রী তনুশ্রী রায় সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারী কলকাতার হাই ল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা পেশায় ঠিকাদার বিশ্বজিৎ দত্ত। তাঁর অভিযোগ, অসমের বোরোল্যান্ডে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের কম্বল সাপ্লাইয়ের টোপ দিয়ে নবারুণ তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা নিয়েছে। ওই কাজে নবারুণ তার স্ত্রী সহ আরও চারজনকে ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ। অসম সরকারের ভুয়ো নথী দিয়ে ডিল করা হয়েছিল। কম্বল সাপ্লাইয়ের বরাত না পেয়ে ওই ঠিকাদার নবারুণের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। গত বছরের ১০ অক্টোবর ওই ঠিকাদার তমলুক থানায় সস্ত্রীক নবারুণ সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেন। চতুর্থবার ওই বিজেপি নেতাকে থানায় ডেকে জেরা করার সময় পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়ার পরই রাজ্য বিজেপির সম্পাদক পদ থেকে নবারুণকে সরিয়ে দেয় বিজেপি নেতৃত্ব।তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, কম্বল সাপ্লাইয়ের নামে প্রতারণা মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় মোট পাঁচজন অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে তিনজন জেল হেফাজতে আছে। বাকি দু’জনকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। চার্জশিটে পাঁচজনের নাম রয়েছে। গ্রেপ্তার না হওয়া দু’জনকে পলাতক উল্লেখ করা হয়েছে। নবারুণ নায়েকের আইনজীবী তাপসকুমার সামন্ত বলেন, নবারুণ নায়েক ও তার স্ত্রী প্রায় তিন মাস জেলবন্দি। তারা জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছে।
ওই মামলার অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, গুয়াহাটির হোটেলে তনুশ্রী রায়ের উপস্থিতিতে ডিল হয়েছিল। নবারুণ নায়েক ফোনে চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছিল। তারপর আমি ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলাম। সরকারি নথি জালিয়াতি করে আমাকে ঠকানো হবে তা কল্পনা করতে পারিনি। যাবতীয় নথি পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছি। গোড়াতে ওই দম্পতি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করতে চায়নি। দফায় দফায় জেরার পর তাঁরা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে। আমি নবারুণ সহ পাঁচজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।



