সংবাদদাতা, কান্দি: একটি-দু’টি নয়, খড়গ্রাম ব্লকে ন’টি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন একবছর ধরে তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ভবনগুলি তৈরি করে। কিন্তু সেগুলি স্বাস্থ্যদপ্তরকে হস্তান্তর না করায় উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। যা নিয়ে এলাকাবসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। যদিও অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) শামসুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসিন্দারা অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতায় চালু হচ্ছে না উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় একবছর আগে খড়গ্রাম ব্লক এলাকায় জয়পুর, পারুলিয়া, মহম্মদপুর, গুরুলিয়া, আমজুয়া, নোনাডাঙা, শাওপাড়া ও কেলাই গ্রামে আটটি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন তৈরি শুরু হয়। প্রতিটি ভবনের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। এছাড়াও খড়গ্রাম গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরও একটি বড় উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবন তৈরি করা হয়েছে। সবগুলিই প্রায় একবছর হল তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এগুলি চালু না হওয়ায় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। জয়পুর গ্রামের বধূ সুস্মিতা মণ্ডল বলেন, একবছর হল ঘর তৈরি হয়ে পড়ে আছে। আর আমাদের সামান্য পরিষেবা পেতে ছুটতে হচ্ছে সাত কিলোমিটার দূরে ইন্দ্রাণী গ্রামে। কেলাই গ্রামের বধূ তাপসী মার্জিত বলেন, গত একবছর ধরেই শুনছি এই পরের মাসে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হবে। কিন্তু এখন দেখছি দরজায় ঘুণ ধরতে শুরু করেছে। এবার হয়তো চোরে দরজাও খুলে নিয়ে যাবে। সরকারি টাকা নষ্ট হবে।জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনগুলি প্রস্তুত হয়ে গেলেও এখনও স্বাস্থ্যদপ্তরে হস্তান্তরিত করা হয়নি। যে কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি চালু করা যায়নি। খড়গ্রাম বিএমওএইচ রিণ্টু গাজি বলেন, ভবনগুলি এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তাছাড়াও বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। তবে প্রতিটি ভবনের জন্য কোটেশন দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ সদস্য শাশ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, বাসিন্দাদের ক্ষোভ হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভবনগুলি হস্তান্তর করার বিষয়ে জেলা পরিষদে বলা হয়েছে।



