Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরির টোপ, গোপন ডেরায় আটক, নন্দকুমারে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার আট যুবতী

বীরভূমের নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনায় নন্দকুমারে অভিযান চালানোয় কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে এল।

চাকরির টোপ, গোপন ডেরায় আটক, নন্দকুমারে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার আট যুবতী
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বীরভূমের নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনায় নন্দকুমারে অভিযান চালানোয় কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে এল। ভাড়াবাড়ি থেকে একসঙ্গে আটজনকে উদ্ধার করা হল। উদ্ধার হওয়া আটজনের মধ্যে তিনজন নাবালিকা ও পাঁচজন যুবতী। বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় নন্দকুমারে হইচই পড়ে যায়। উদ্ধার হওয়া ওই কিশোরী ও যুবতীদের বাড়ি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪পরগনা, বীরভূম সহ বিভিন্ন জেলায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারপর নন্দকুমারে আনা হয়েছিল। সেখানেই সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ঝামেলার পর বীরভূমের এক নাবালিকা বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানায়। তারপরই ঩সেখানকার পুলিশ এবং নন্দকুমার থানা যৌথভাবে অভিযান চালায়। নাবালিকাদের হোমে পাঠানো হয়। ১৮বছর পার হওয়া পাঁচজনকে বাড়ির লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং সংস্থায় কাজের বিজ্ঞাপন দিয়ে একটি সংস্থা বিভিন্ন জেলার মেয়েদের নন্দকুমারে এনেছিল। নন্দকুমারে বাজারে একটি ঘরভাড়া নিয়ে সেখানেই তোলা হয়েছিল। যদিও তাদের কয়েকজনের সঙ্গে ওই সংস্থার ঝামেলা বেধে যায়। এই অবস্থায় বীরভূমের এক নাবালিকা বিষয়টি নিজের বাড়িতে ফোন করে জানায়। পাশাপাশি নন্দকুমার থেকে উদ্ধার করার আর্জি জানায়। এরপরই ওই নাবালিকার পরিবার সেখানকার পুলিশের শরণাপন্ন হয়। বুধবার রাতে বীরভূম পুলিশের একটি টিম নন্দকুমার থানায় আসে। এরপর যৌথ টিম নন্দকুমারে বাজারে ওই ভাড়াবাড়িতে হানা দেয়। তখন একসঙ্গে আটজনকে পাওয়া যায়। তাদের প্রত্যেককে নন্দকুমার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনের বাড়ি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪পরগনায়। ওই আটজনকে কোনও খারাপ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। নন্দকুমার হাইরোড বরাবর একাধিক হোটেলে দেহ ব্যবসা চলে বলে অভিযোগ। দূরপাল্লার বাস এখানে নাইট হল্ট করে। গাড়িচালক, খালাসি সহ অনেকের অবাধ যাতায়াত রয়েছে সেইসব হোটেলে। এর আগে নন্দকুমারে একটি হোটেলে এক যুবতীকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানীয় খাইয়ে বেহুঁশ করে শারীরিক অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছিল প্রেমিকের বিরুদ্ধে। সঙ্কটজনক অবস্থায় খেজুরবেড়িয়া গ্রামীণ হাপসাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তমলুক ব্লকের ওই যুবতীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় যুবতীর বাবা পেশায় হাইস্কুল শিক্ষক থানায় এফআইআর করেছিলেন।
নন্দকুমার থানার ওসি অমিত দেব বলেন, বীরভূমের একটি অপহণের মামলায় সেখানকার পুলিশ আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে তল্লাশি চালায়। তখনই নন্দকুমারে বাজারে একটি ভাড়াবাড়ি থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন নাবালিকা। বাকিদের বয়স ১৮বছরের বেশি। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ