নয়াদিল্লি ও লখনউ: ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে যোগীরাজ্য থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে বড়ো চমক বিজেপির। রাজ্য থেকে নির্বাচিত উচ্চকক্ষের বর্তমান আট সদস্যকে এবার আর টিকিট দিল না পদ্ম শিবির। এই তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম দেশের পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যসভার নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় চর্চা তুঙ্গে। তাহলে কি মোদি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে চলেছেন পুরী? ই ২০ পেট্রল নিয়ে দেশজোড়া বিতর্কের আবহে এবিষয়ে জোরদার জল্পনা চলছে রাজনীতির অলিন্দে। টিকিট না পাওয়া বিজেপির বাকি সাত সাংসদ হলেন অরুণ সিং, সীমা দ্বিবেদী, বি এল ভার্মা, নীরজ শেখর, ব্রিজলাল, গীতা শাক্য ও দীনেশ শর্মা। তাঁদের মধ্যে দীনেশ শর্মাকে ইতিমধ্যেই আন্দামান ও নিকোবরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নিয়োগ করা হয়েছে। জোর চর্চা চললেও শেষ পর্যন্ত টিকিট মেলেনি সদ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া স্মৃতি ইরানির।
নতুন প্রার্থী বাছাইয়ের নেপথ্যে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ভোট-সমীকরণ কাজ করেছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এক্ষেত্রে জাতপাত ভিত্তিক সমীকরণ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের অঙ্ক রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। এবারের আসন্ন রাজ্যসভার ভোটে টিকিট দেওয়া হয়েছে ধরমপাল সিং, রাধাকান্ত ওঝা, প্রকাশ পাল, বিদ্যাসাগর সোনকর, গোপীকৃষ্ণ পান্ডে, প্রিয়াঙ্কা সিং রাওয়ার, রামপ্রতাপ সিং চৌহান ও শ্রুতি গাঙ্গোয়ারকে। অর্থাৎ আটজনের মধ্যে দু’জন মহিলা। জাতপাত ভিত্তিক সমীকরণ বলছে, এই প্রার্থীদের তিনজন ওবিসি, দু’জন এসসি।
ধরমপাল সিং বেরিলির প্রবীণ বিজেপি নেতা। বহুবারের বিধায়ক তথা যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পশুপালনমন্ত্রী। তিনি লোধি সম্প্রদায়ভুক্ত। দলের প্রবীণ সাংগঠনিক নেতা প্রকাশ পাল উত্তরপ্রদেশ ওবিসি মোর্চার সভাপতি। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের বর্ষীয়ান দলিত নেতা বিদ্যাসাগর সোনকর সইদপুরের প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন বিধান পরিষদ সদস্য। তিনি বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন। প্রিয়াঙ্কা সিং রাওয়াত বরাবাঁকি আসনের প্রাক্তন সাংসদ। মনোনয়ন পাওয়া আরও এক প্রবীণ সাংগঠনিক নেতা হলেন রামপ্রতাপ সিং চৌহান। চলতি বছরের জুনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের সময় তাঁকে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। আগস্ট মাসে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ সাংগঠনিক অঞ্চলের দায়িত্বও দেওয়া হয় চৌহানকে।