নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুজোর শুরুতেই মৃত্যুফাঁদের রূপ নিয়েছিল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। প্রথম তিনদিনে মৃত্যু হয়েছিল আট বাইক আরোহীর! কিন্তু পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করতেই ছবি বদলে গেল শেষ চারদিনে। অষ্টমী থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত একজনেরও মৃত্যু হয়নি। অতিরিক্ত গতিতে বাইক ও গাড়ি ড্রাইভিং, মদ খেয়ে গাড়ি চালানোসহ নানা বেনিয়মের অভিযোগে পাঁচ হাজারের বেশি কেস করা হয়েছে। আর তাতেই বদলে গিয়েছে সম্পূর্ণ চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশ সক্রিয় হলে অনেক কিছুই যে বদলে যায় এটা তার বড়ো উদাহরণ।
বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (ট্রাফিক) অম্লানকুসুম ঘোষ বলেন, পুজোয় কমিশনারেট এলাকা জুড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনাপ্রবণ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। তার সুফল মিলেছে। পুজোর প্রথম তিনদিনে আটজনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু অষ্টমী থেকে কারও মৃত্যু হয়নি। এই নজরদারি চলবে।
পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী এই তিনদিনে ঝাঁচকচকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে পরপর বাইক দুর্ঘটনা ঘটে। আটজনের মৃত্যু হয়। জখম হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। এরপর কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত সোদপুর, বারাকপুর ও আঁতপুর এই তিন ট্রাফিক গার্ড এলাকাতেই দুর্ঘটনাগুলি ঘটেছিল। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ধাবাসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের স্পেশাল নাকা চেকিং শুরু করা হয়। সেখানে মদ খেয়ে বাইক ও গাড়ি চালানো হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। কোথাও আবার স্পিড লেজার গান নিয়ে ওঁত পেতে ছিলেন পুলিশ কর্মীরা। তার ফলে পাঁচ হাজারের বেশি কেস দায়ের করা হয়। এর মধ্যে দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কেস, একটি বাইকে তিনজন আরোহী যাওয়ায় চারশোজনের বেশি বাইক চালকের বিরুদ্ধে কেস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিনা হেলমেটে বাইক চালানোয় এক হাজারজনের বিরুদ্ধে এবং শতাধিক বাইক চালকের বিরুদ্ধে ‘ড্রিংক অ্যান্ড ড্রাইভ’ কেস দেওয়া হয়েছে।
শুধু কড়া পদক্ষেপই নয়, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের গাড়ি চালকদের সচেতন করতে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ দেখানো হয়েছিল। এছাড়া মাইকিংয়ের পাশাপাশি ফ্লেক্স লাগিয়েও প্রচার করা হয়েছিল। পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে কড়া নজরদারি রাখা হবে। কোনও বেনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। এতে হয়তো সাধারণ মানুষ সাময়িক সমস্যা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু জীবন বাঁচানোর তাগিদে সবার সহযোগিতা চেয়ে পুলিশের তরফে আবেদনও করা হচ্ছে।