নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নিয়ম না মেনে কাজ করায় পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের আটটি ঠিকাদার সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বেশি টাকা লাভের জন্য নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তারা কাজ করেছিল বলে অভিযোগ আসে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, ‘সিডিউল’ মেনে প্রত্যেক ঠিকাদারকে কাজ করতে হবে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। প্রতিটি কাজ পরিদর্শন করা হবে। নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে কি না জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়াররা তা খতিয়ে দেখবেন। এছাড়া এলাকার বাসিন্দারাও অভিযোগ করলে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। কাজে স্বচ্ছতা রাখতে হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বহু রাস্তা সংস্কারের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে রাস্তা বেহাল হয়ে যাওয়ায় এলাকার বাসিন্দারাও ক্ষোভে ফুঁসছেন। রায়না, খণ্ডঘোষ, গলসি সহ বিভিন্ন এলাকাতেই একই ছবি। পঞ্চদশ অর্থ কমিশন, পঞ্চম অর্থ কমিশন, পথশ্রী প্রকল্পের টাকায় রাস্তাগুলি সংস্কার করা হয়েছিল। কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে রাস্তাগুলি বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। বর্ষা শেষ হতে এখনও ঢের দেরি রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাস্তাগুলির অবস্থা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। গলসির একটি রাস্তার কাজ নিয়ে খোদ সাংসদ কীর্তি আজাদও প্রশ্ন তুলেছিলেন। সভাধিপতি বলেন, সব রাস্তা তৈরির কাজ খারাপ হয়েছে এমনটা ঠিক নয়। যেগুলির নিম্নমানের কাজ হয়েছে সেগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে আরও কয়েকটি রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হবে। প্রতিটি কাজের গুণমান খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয়দের একাংশর দাবি, সব সময় ঠিকাদারদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তাদেরকেও বিভিন্ন জায়গায় ‘প্রণামী’ পাঠাতে হয়। সেই কারণে তারা কাজের মান খারাপ হয়। শুধু জেলা পরিষদ নয়, পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বহু পঞ্চায়েত সমিতি কাছের ঠিকাদারদের কাজ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে অনিয়মও নিয়ম হয়ে যায়। কয়েক দিন আগে মন্তেশ্বরে দুই ইঞ্জিনিয়ারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। তিনি এক ঠিকাদারকে জোর করে কাজ পাইয়ে দিতে চান। ওই ইঞ্জিনিয়ার প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর হামলা করা হয়। সেই কারণে অনেক আধিকারিক প্রতিবাদ করার ঝুঁকি নেন না। আউশগ্রাম এলাকাতেও রাস্তার কাজ নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন। এক আধিকারিক বলেন, কোথাও কাজের মান খারাপ হলে এলাকার বাসিন্দারাও প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রয়োজনে আধিকারিকরা গিয়ে কাজ দেখবেন। ঠিকাদারদের ‘সিডিউল’ মেনে কাজ করতে হবে। তা না হলে শুধু কালো তালিকাভুক্ত নয়, আগামী দিনে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ আট ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করে কড়া বার্তা দিয়েছেন। এরপরও কেউ বেপরোয়া মনোভাব দেখালে তাঁর দুর্দিন নেমে আসবে।