Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঈদ এক করল তিন পাড়াকে, ২৫ বছর বাদে একসঙ্গে নামাজ আদায়

মনোমালিন্যের জেরে একই ঈদগাহয় ভিন্ন পাড়ার বাসিন্দারা আলাদাভাবে নামাজ পড়তেন

ঈদ এক করল তিন পাড়াকে, ২৫ বছর বাদে একসঙ্গে নামাজ আদায়
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, বীরভূম: মনোমালিন্যের জেরে একই ঈদগাহয় ভিন্ন পাড়ার বাসিন্দারা আলাদাভাবে নামাজ পড়তেন। তবে এবারের ঈদ সেই বাসিন্দাদের এক করল। দীর্ঘ ২৫ বছর পর সকলে একসঙ্গে নামাজ পড়লেন। পরে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিয়মও করলেন। সবটাই সম্ভব হয়েছে গ্রামের যুবকবৃন্দের প্রচেষ্টায়। ঘটনাটি রামপুরহাটের লম্বদরপুর গ্রামের। 

Advertisement

গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পাড়া নিয়ে লম্বদরপুর গ্রাম। ২৫ বছর আগে নানা কারণে গ্রামবাসীদের মধ্যে অশান্তি হয়। তখন থেকেই ঈদের দিনে গ্রামের ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ পড়া বন্ধ হয়ে যায়। একই ঈদগাহে তিনটি পাড়ার মানুষ আলাদাভাবে নামাজ পড়তেন। এবছর আগে থেকেই তিনটি পাড়ার যুবকরা গ্রামের সকলকে এক করার প্রয়াস নেন। সেই মতো সবপক্ষের সঙ্গে পৃথক আলোচনা বসেন তাঁরা। অবশেষে সকলেই এগিয়ে আসেন। এদিন গ্রামের ঈদগাহে গোটা গ্রামের পুরুষ সদস্যরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করলেন। গ্রামবাসী বাহারাম কবির, রামিজ হাসান, মহম্মদ মুরাদ আলিরা বলেন, ২৫ বছর আগে গ্রামে একটা অশান্তি হয়েছিল। তারপর থেকে আমরা তিনভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিলাম। একসঙ্গে চলাফেরা, চাষবাস করলেও একসঙ্গে নামাজ পড়তাম না। যুবকদের প্রচেষ্টায় এদিন আমরা সবাই ঈদগাহে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করলাম। সমস্ত মনোমালিন্য দূরে সরিয়ে রেখে এবার একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারায় খুবই খুশি। ২৫ বছর পর সব থেকে বড় উৎসব হল গ্রামে। দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ায় যুবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। 
অন্যদিকে প্রতিবারের মতো এবারও মাড়গ্রামে গোদাম পাড়ার মসজিদের বাইরে মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে নামাজ পড়েন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মমতাজ সংঘমিত্রা চৌধুরী। ২০০৬ সালে মহিলাদের বাইরে বেরিয়ে এসে নামাজ পড়ার সাহস জুগিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী প্রয়াত নূরে আলম চৌধুরি ও তাঁর স্ত্রী মমতাজ সংঘমিত্রা চৌধুরী। বছর বছর নামাজে মহিলাদের উপস্থিতি বাড়ছে। এবছর তা ১৯ বছরে পা দিল। সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন এই সাংসদ।
বোলপুর মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে সোমবার ঈদ উদযাপনে মেতে ওঠেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। টানা একমাস পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখার পর এদিন সকাল হতেই ঈদের নামাজে শামিল হন মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস লাগোয়া বোলপুরের ভুবনডাঙার ঈদগাহে বিশাল জায়গাজুড়ে ঈদের প্রার্থনায় শামিল হন পুরসভার ভুবনডাঙা, নতুনপুকুর, বাঁধগোড়া, গুরুপল্লি, দর্জিপাড়া সহ অন্যান্য এলাকার মানুষ। উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ সহ অন্যান্যরা। গরমের কথা মাথায় রেখে এবছরই প্রথম পুরসভার তরফে ঈদগাহে মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হয়। পুরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। এদিন নানুরের পাপুড়ি গ্রামে ঈদের নামাজে শামিল হন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ও কেতুগ্রামের বিধায়ক শাহনাওয়াজ হোসেন। একইভাবে লাভপুর বিধানসভার ঠিবা, কুরুন্নাহার, বিপ্রটিকুরি, লাভপুর ১ ও ২ নং পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্থানীয় বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ। 
অন্যদিকে, সদর শহর সিউড়িতে পুলিস লাইন সংলগ্ন ঈদগাহে সকালে নামাজে সমবেত হয়েছিলেন অগনিত মানুষ। পরে বীরভূম জেলা ঈদ স্পোর্টসের তরফে সেখানেই বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ২৬টি ইভেন্টে শহর সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে এদিনই বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঈদকে সামনে রেখে সিউড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকা ও মসজিদ আলোকমালায় সেজে উঠেছে।
 রামপুরহাটের লম্বদরপুর গ্রামের মুসিলম সম্প্রদায়ের মানুষজন বিভেদ ভুলে একসঙ্গে ঈদগাহাতে নামাজ পড়ছেন। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ