সংবাদদাতা, লালবাগ: ঈদকে কেন্দ্র করে সেজে উঠেছে সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদ। ঈদে কয়েকদিন মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নামার আশায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। নবাবের শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি মসজিদ, মাজার ও পাড়া মহল্লাগুলি আলোকমালা ও রঙিন কাগজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সেজে উঠেছে বিভিন্ন হোটেল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও। পর্যটক টানতে বেশকিছু টাঙা প্লাস্টিকের রঙিন ফুল, মালায় সাজানো হয়েছে।
ইতিহাসবিজড়িত শহর মুর্শিদাবাদ। এই শহরের পরতে পরতে রয়েছে নবাবি ইতিহাস। বছরভর এশহরে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। পুজো ও শীতের মরশুম বাদে যে বিশেষ সময়ের দিকে পর্যটন মহল তাকিয়ে থাকে, সেটি ঈদ। এসময় হাজারদুয়ারি, মোতিঝিল, কাঠগোলাপ বাগান, কাটরা মসজিদ সহ প্রায় সমস্ত দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। এবছরও প্রচুর পর্যটক আসবেন বলে আশা করছেন হোটেল ব্যবসায়ী, গাইড, টাঙাচালক সহ নানা পেশার মানুষ।
কিল্লা নিজামতের একটি খাবারের হোটেলের মালিক বলেন, ঈদে চারদিন পর্যটকদের ভালো ভিড় হয়। খদ্দের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এবছরও পর্যটক সমাগম ভালো হবে বলেই আশা করছি। কাটরা মসজিদে ঘর সাজানোর জিনিস বিক্রি করেন কিসমত শেখ। তিনি বলেন, পর্যটকরা নবাব নগরীর স্মৃতি হিসেবে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কেনেন। বাজার ধরতে অনেক টাকার মাল তুলেছি। আশা করছি, ভালো বিক্রি হবে। টাঙাচালক ইসমাইল মিয়াঁ বলেন, প্রতিবছর ঈদে তিন-চারদিন ভালো ভিড় হয়। আশা করছি, এবছরও পর্যটকদের ঢল নামবে। ফলে বাড়তি কিছু রোজগার হবে। মোতিঝিলের কর্মী সিরাজুল শেখ বলেন, ঈদের সকালে নামাজ ও খাওয়াদাওয়ার পর্ব থাকে। সেকারণে দুপুরের পর থেকে ভিড় হয়। তবে পরের তিন-চারদিন ব্যাপক ভিড় থাকে। ওই কয়েকদিন মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মোতিঝিলে আসবেন।
সিটি মুর্শিদাবাদ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, ঈদে প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়। ভালো রোজগারের আশায় সবাই ঈদের দিকে তাকিয়ে থাকেন।