নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নবাবি মুলুকে রবিবারের ঈদের বাজার জমজমাট। তাতেই খুশির ঝলক দেখা গেল বিক্রেতাদের মুখে। পরপর দু’দিন বৃষ্টির পর রোদ ঝলমলে ছিল রবিবারের আকাশ। তাই সকাল থেকে ব্যাপক ভিড় জমিয়েছিলেন ক্রেতারা। বহরমপুর সদরের বড় থেকে ছোট দোকানে ভালোই কেনাকাটা করলেন মানুষ। বেলা বাড়তেই খাগড়ার রাস্তায় দফায় দফায় যানজটে নাজেহাল হতে হল ক্রেতা থেকে বিক্রেতা— সকলকেই। কান্দি, জঙ্গিপুর, লালবাগ, বেলডাঙা, ডোমকল সর্বত্রই এদিন জমিয়ে ঈদের কেনাকাটা করলেন মানুষ। আটদিন পরেই খুশির ঈদ। তার আগে দোকানে ঘুরে পছন্দের জামা কাপড় পোশাক কিনতে ব্যস্ত তরুণ তরুণী, যুবক-যুবতীরা। বড় বড় দোকান ও শপিং মলগুলিতে দুপুরের পর থেকেই উপচে পড়ে ভিড়। রাত পর্যন্ত চলে দেদার কেনাকাটা। তবে এদিন সকাল দশটার দিকে বেশ কিছু বস্ত্র বিপণীতে ভিড় দেখা যায়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সকাল সকাল জেলা সদরের বাজারে চলে আসেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় মানুষ কেনাকাটায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
ইসলামপুরের বাসিন্দা ইমতিয়াজ শেখ এদিন সপরিবারে বাজারে এসেছিলেন। রবিবার দুপুরে খাগড়ার যানজটে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, সকালবেলাতেই বাজারে এতটা ভিড় হবে বুঝতে পারিনি। সকাল আটটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। সপরিবারে বাজার করতে এসেছি। জানি, খাগড়া মার্কেটের রাস্তা খুব সরু। বেলা বাড়লে ভিড় বাড়তে পারে। সেজন্য আগেভাগে এসেও সেই যানজটে নাকাল হচ্ছি। খাগড়া চৌরাস্তার সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে এক টোটো চালক বলেন, এই বাজারের তিন কিলোমিটার রাস্তা পেরতেই আধঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। বাজারে সকাল থেকেই ভিড় আছে। প্রচুর যাত্রী পেলেও এক একটা ট্রিপ নামাতেই সময় লেগে যাচ্ছে। সাগরদিঘির যুবতী সাইনা খাতুন বলেন, আমি বহরমপুরে কলেজে পড়াশোনা করি। নিজের পছন্দের পোশাক আগেই কিনে নিয়েছি। তবে এদিন পরিবারের সঙ্গে সকলের জামা কাপড়, পোশাক কিনতে বেরিয়েছি। দু’টি বড় দোকান ঘুরেছি, এখন শপিং মলে ঢুকলাম। এখানেও ব্যাপক ভিড়। ভালো করে কিছু দেখতেই পারছি না। কেনাকাটার পর সন্ধ্যায় খাওয়া-দাওয়া করে একেবারে বাড়ি ফিরব।
বৃহস্পতি ও শুক্রবারের বৃষ্টিতে বাজার কিছুটা প্রভাবিত হয়, তবে শনিবার বিকেলের পর থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যার পর ঈদের বাজারে ভালোই ভিড় হয়েছে। তবে রবিবার দিনভর কেনাকাটা সমস্ত ভিড়কে টেক্কা দিল বলেই জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। বহরমপুর শহরের পাশাপাশি সমস্ত মহকুমার বাজারেও এদিন ভালো বিক্রি হয়েছে। আর তাতেই খুশির হাসি ব্যবসায়ীদের মুখে। রানিনগরের বস্ত্র ব্যবসায়ী, গোলাম মুর্শেদ শেখ বলেন, যেভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হয়েছিল, তাতে ঈদের বাজার নিয়ে একটু আশঙ্কাই হচ্ছিল। তবে শনিবার থেকে বাজার ঘুরছে। রবিবার আমরা প্রচুর বিক্রি করেছি। ইফতার করে সন্ধ্যার পর মানুষ বাজারমুখী হচ্ছেন। আগামী এক সপ্তাহ ভালোই বিক্রি হবে বলেই আমরা আশা করছি। রঘুনাথগঞ্জের এক বস্ত্র বিপণির ব্যবসায়ী রতন শেখ বলেন, ভালোই বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে সন্ধ্যার দিকে চাপ বেশি হচ্ছে। কিছু সময় একসঙ্গে এত কাস্টমার চলে আসছেন যে, আমরা জামাকাপড় দেখিয়েই উঠতে পারছি না। রবিবারের বাজার দেখে আমরা খুব খুশি।