সংবাদদাতা, কাঁথি: এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতিতে তৃণমূলের অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে খালি হাতে ফিরল বিজেপি। অনাস্থা নিয়ে বিজেপির আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে হাইকোর্টে। দু’পক্ষের হলফনামা জমা নেওয়ার পর শুনানিতে বিজেপির মামলা খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ। এর ফলে তৃণমূলের দখলেই থাকল পঞ্চায়েত সমিতি। উল্লেখ্য, এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতির মোট ২৪টি আসন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল সেখানে ১২টি করে আসনে জয়ী হয়। লটারির মাধ্যমে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূল থেকে এবং সহ-সভাপতি বিজেপি থেকে নির্বাচিত হন। স্থায়ী সমিতিতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় ভোটাভুটিতে ন’টির মধ্যে সবক’টিই বিজেপির দখলে আসে। এগরা এলাকাটি মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এবার লোকসভা ভোটে সেখানে বিজেপির প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল হেরে যান এবং জুন মালিয়া সাংসদ হন। এর ফলে স্থায়ী সমিতিতে বিজেপির সংখ্যা কমে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থার আবেদন করে তৃণমূল। গত ১৪নভেম্বর অনাস্থা বৈঠকে বিজেপির সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন। এককভাবে জয়ী হয় তৃণমূল। অনাস্থা বৈঠক ‘বেআইনি’ বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে মামলা করে বিজেপি। মামলার শুনানিতে দু’পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। যদিও মামলা চলাকালীনই গত ২ডিসেম্বর পঞ্চায়েত সমিতির ন’টি স্থায়ী সমিতির বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। এদিকে দু’পক্ষের হলফনামা দেখে গত ৯ডিসেম্বর বিচারপতি মামলা খারিজ করে দেন। ভবিষ্যতে বিজেপির সদস্যদের ধরে রাখাটাই গেরুয়া শিবিরের কাছে চ্যালেঞ্জ, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক তন্ময় হাজরা বলেন, হাইকোর্টের রায়কে মেনে নিতেই হবে। তবে তৃণমূলের এই ক্ষমতা দখলের রাজনীতির জবাব আগামী দিনে এগরার মানুষই দেবে। এগরার বিধায়ক তৃণমূলের তরুণকুমার মাইতি বলেন, আইন মেনে অনাস্থা আনা হয়েছিল। সেইমতো স্থায়ী সমিতি গঠনও হয়েছে। আদালতে গিয়ে সমুচিত জবাব পেয়েছে বিজেপি।



