সংবাদদাতা, কাঁথি: এগরায় নতুন ব্রিজের জায়গা পরিবর্তনের প্রতিবাদে এবং পূর্বের জায়গার ব্রিজ গড়ার দাবিতে ব্লক প্রশাসন ও সেচদপ্তরের আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার বাসিন্দারা। সোমবার এগরা-২ ব্লকের পাহাড়পুরে এলাকা পরিদর্শনে এলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, পাহাড়পুর এলাকায় খালের উপর ৫০ বছরের পুরনো ব্রিজ বছর পাঁচেক আগে ভেঙে পড়েছিল। ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত এগরা ও পটাশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যাতায়াত করতেন। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় তাঁদের অন্য দিক দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এর ফলে তাঁদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সেখানে নতুন কংক্রিটের ব্রিজের দাবি অনেকদিন ধরেই ছিল। দাবি মেনে কয়েক মাস আগে পাহাড়পুরে নতুন ব্রিজের অনুমোদন দেয় সেচদপ্তর। কিন্তু এলাকার বাসিন্দারা পরবর্তীকালে জানতে পারেন, যেখানে ব্রিজ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে নয়, এক কিলোমিটার দূরে এগরা-২ ব্লকের দেশবন্ধু পঞ্চায়েতের বামুনবাড়-হুড়কুচিয়া এলাকায় ব্রিজ তৈরির তোড়জোড় শুরু করেছে সেচদপ্তর। অথচ পাহাড়পুরের বাসিন্দারা কিছুই জানেন না। এরপর তাঁরা সেচদপ্তর সহ প্রশাসনিক মহলে আপত্তি জানান। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেশ এনিয়ে এলাকার এক বাসিন্দা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তার ভিত্তিতে এদিন সেচদপ্তরের আধিকারিক সহ এগরা-২ বিডিও অরিজিৎ গোস্বামী, পটাশপুর-২ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অংশুমান ঘোষ এলাকা পরিদর্শনে যান। সেই সময়ে তাঁদের ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। বাসিন্দারা দাবি জানান, পূর্বের জায়গাতেই ব্রিজ করতে হবে। না হলে বিক্ষোভ জারি থাকবে। তাঁরা এও বলেন, পাহাড়পুরে ব্রিজ তৈরি হলে এগরা-২ ব্লকের বাথুয়াড়ি ও পটাশপুর-২ ব্লকের সাউথখণ্ড সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। আর বামুনবাড়-হুড়কুচিয়া ব্রিজ হলে দেশবন্ধু সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদেরই সুবিধা হবে। ফলে দুর্ভোগ থেকেই যাবে। অনেকটা রাস্তা ঘুরেও যাতায়াত করতে হবে। বাসিন্দাদের দাবির কথা শোনার পর প্রশাসন ও সেচদপ্তরের আধিকারিকরা আশ্বাস দেন, তাঁদের যাবতীয় আর্জিই খতিয়ে দেখা হবে। এরপরই বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এবিষয়ে এগরা-২ বিডিও অরিজিৎ গোস্বামী বলেন, আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের দাবি যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করছি। সবকিছু রিপোর্ট আকারে আদালতের কাছে পেশ করা হবে। মহামান্য আদালত যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।



