নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই ঘর ওয়াপসি হল বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যের। দল বদলের এই টানাপোড়েনে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। বুধবার দিনভর ঘরের দরজায় খিল তুলে কার্যত বন্দি অবস্থায় কাটালেন। সেইসঙ্গে থানায় ফোন করে পুলিশি নিরাপত্তা চাইলেন। এগরা-২ ব্লকের বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতের বিজেপির সদস্য কমললোচন বেরা ভাবতেও পারেননি, ভোটের উত্তাপে দল বদল করার ধকল এত কঠিন হবে!
২০২৩সালে এগরা-২ ব্লকের বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতে মোট ২২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৪টি, তৃণমূল চারটি, সিপিএম তিনটি এবং নির্দল একটি আসনে জয়ী হয়। পরবর্তীতে নির্দল প্রতীকে জয়ী সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ভোটের উত্তাপে মঙ্গলবার ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমকবাড়ের বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য কমললোচন বেরা বালিঘাইয়ে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে হাজির হন। তৃণমূল নেতা তাপস ভট্টাচার্য তাঁকে ব্লক পার্টি অফিসে নিয়ে যান। রাত ৯টা নাগাদ এগরার বিধায়ক তথা ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তরুণকুমার মাইতি কমললোচনের হাতে জোড়াফুলের পতাকা তুলে দেন। রাতে ফিরে যান যান ওই পঞ্চায়েত সদস্য।
রাত ১২টা নাগাদ বালিঘাইয়ের বিজেপির কার্যালয়ে হাজির করানো হয় কমললোচনকে। সেখানে ফের তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা ধরানো হয়। সেইসঙ্গে কমললোচন বিজেপিতেই আছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বুধবার এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। দু’দলের লোকজন তাঁর নাগাল পাওয়ার জন্য বাড়িতে হাজির হয়। কিন্তু, ঘরের দরজায় খিল তুলে ভিতরে নিজেকে বন্দি রাখেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। ভিতর থেকেই থানায় ফোন করে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান।
এগরা-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি রাজকুমার দুয়ারী বলেন, বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির ওই সদস্য মঙ্গলবার রাতে আমাদের পার্টি অফিসে এসেছিলেন। আমাদের দলের পতাকা ধরার পর বিজেপি তাঁকে চাপ দেয়। তারপর বিজেপির পতাকা ধরানো হয়েছে বলে শুনেছি। বুধবার সারাদিন ঘরে ছিলেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তন্ময় হাজরা বলেন, ওই পঞ্চায়েত সদস্যকে ভুল বুঝিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর তৃণমূল প্রার্থীকে দিয়ে পতাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে কমললোচন বাড়ি ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর রাতেই তাঁকে ফের আমাদের পতাকা ধরানো হয়েছে।



