নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘ডিম থেরাপি’ অব্যাহত। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পরের দিন থানা ও আদালত চত্বরে দফায় দফায় বিজেপি সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ধৃত বিধাননগরের প্রথম মেয়র, দু’বারের বিধায়ক এবং বিদায়ী চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তের গায়ে ছোড়া হয়েছিল পচা ডিম, পচা টম্যাটো, এমনকি গোবরও। ফের রবিবার সল্টলেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লেন বিজেপির একদল বিক্ষোভকারী। তদন্তের প্রয়োজনে এদিন বিধাননগর উত্তর থানা থেকে সব্যসাচী দত্তকে ওয়ার্ড অফিস, ক্লাব সহ তিনটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বেশ কিছু নথি ও ফাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওয়ার্ড অফিস থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে চলে ‘ডিমবৃষ্টি’।
এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলাবাজির অভিযোগে গত ৮ জুন রাতে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। পরের দিন ৯ জুন, তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। ওইদিন সকালেই থানার সামনে ডিম, টম্যাটো, গোবর নিয়ে জড়ো হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে থানা থেকে বের করতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, টম্যাটো, গোবর ছোড়া হয়। আদালতে পৌঁছানোর পরও তাঁকে ডিম ছুড়ে ‘অভ্যর্থনা’ জানায় বিক্ষোভকারীরা। আদালত থেকে বের করার সময় এবং থানায় নিয়ে আসার সময় একইভাবে ডিম ছোড়া হয়। আদালতের নির্দেশে তিনি এখন আটদিনের পুলিশ হেপাজতে রয়েছেন।
সব্যসাচী দত্ত বরাবরই দাপুটে নেতা। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে পরপর দু’বার রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা থেকে তিনি তৃণমূলের বিধায়ক হন। ২০১৫ সালে বিধাননগর কর্পোরেশন গঠিত হলে তিনিই প্রথম মেয়র হন। পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান। ২০২১ সালে তিনি বিধাননগরে বিজেপির প্রার্থী হলেও হেরে যান। ফের তৃণমূলে যোগ দিয়ে এবার বিধানসভার ভোটে লড়েছিলেন। এবার বিজেপির কাছে হেরে যান। ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে কয়েকশো অনুগামী ঘুরে বেড়ালেও বিজেপির বিক্ষোভের সময় সেই অনুগামীদের কাউকেই অবশ্য পাশে দেখা যায়নি।
রবিবার সকালে থানা থেকে বের করে সল্টলেকের সিএফ ব্লকের ওয়ার্ড অফিসে পুলিশ তাঁকে নিয়ে যায়। আগে থেকে সেখানে বিজেপির বিক্ষোভকারীরা জমায়েত করেছিল। সবার হাতেই ছিল ডিম। কারও হাতে ভালো। কারও হাতে পচা। ঢোকার সময়ও বিক্ষোভ হয়। পরে ওই অফিস থেকে পুলিশ বেশ কিছু নথিপত্র ও ফাইল বাজেয়াপ্ত করে। সেগুলি গাড়িতে তোলা হয়। ওই অফিস থেকে তাঁকে বের করার সময়ও বিক্ষোভকারীরা প্রচুর ডিম ছোড়েন। পুলিশ ঢাল দিয়ে তাঁকে আড়াল করে গাড়িতে তোলে। দূর থেকে লক্ষ্য করে গাড়ির ভিতরেও ডিম ছোড়া হয়।
ওই ওয়ার্ড অফিসের পাশাপাশি পুলিশ একটি যোগা সেন্টারে এবং সব্যসাচীর ক্লাব মৈত্রী সংঘেও তল্লাশি চালায়। খোদ ক্লাব কর্তা হাজির হলেও মৈত্রী সংঘ ক্লাবের চাবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বেশ কিছক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একজন এসে ক্লাবের তালা ভাঙেন। তারপর সব্যসাচীকে ভিতরে নিয়ে যায় পুলিশ। তিন জায়গায় তল্লাশির পর তাঁকে ফের বিধাননগর উত্তর থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রসঙ্গত, তোলাবাজির অভিযোগের পাশাপাশি, সব্যসাচী দত্তের একটি অডিয়ো রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে। যদিও এদিন এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কোনো মন্তব্য করেননি সব্যসাচীবাবু। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। নিজস্ব চিত্র